জাতীয়প্রধান সংবাদ

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

ঢাকা, ১৬ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বাংলাদেশ ও সুইডেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ব্যবসা এবং নগর উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকারাবদ্ধ হন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে সুইডেনে অবস্থান করছেন। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এটাই বাংলাদেশের কোনো সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানের সুইডেনে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সরকারি সফর।

সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে শহীদুল হক বলেছেন, ‘এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের দুয়ারও উন্মোচিত হয়েছে।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একযোগে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন। দুই নেতা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ব্যবসা ও নগর উন্নয়ন খাতকে চিহ্নিত করেন।

বৈঠকে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এক্ষেত্রে তাদের বেসরকারি খাতের ভূমিকাও তিনি তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটাই বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে। সুইডেন বর্তমানে অনেক উন্নয়নশীল দেশেই স্মার্ট সিটি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশে কীভাবে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রতিষ্ঠায় সুইডেন সহযোগিতা করতে পারে সে বিষয়েও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ইউরোপের অনেক দেশের আগেই স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়ায় সুইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সুইডেন সব সময়ই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে।’

শহীদুল হক বলেন, সুইডেন ২০৩০ উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে চায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তারা একটি সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

২০১৪ সালে সুইডেনের সঙ্গে জাতিসংঘের বৈশ্বিক চুক্তি অনুযায়ী সুইডেন শিল্প প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের ধরন পরিবর্তনের বিষয়ে একটি নতুন ধারণার সূচনা করে।

বৈঠকে লোফভেন বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি জরুরি। তারা এ বিষয়ে কয়েকটি দেশকে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কাজ করতে চান।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রেডিমেড গার্মেন্টস ট্রাইপারটাইট কনসালটেটিভ কাউন্সিল’কে সহযোগিতার ঘোষণাকে এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তির আওতায় একটি নবতর অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ বিষয়ে সুইডিশ সরকার কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী এবং বাংলাদেশ সরকারও তাদের প্রস্তাব সাদরেই গ্রহণ করেছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, শ্রমসচিব মিকাইল সিপার, সুইডেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একান্তে বৈঠক করেন বলে পররাষ্ট্রসচিব জানান।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button