জাতীয়

পাহাড়ে ‘লাশের মিছিল’ থামাতে আসছে ‘মহাপরিকল্পনা’

ঢাকা, ১৭ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

গত ১০ বছরে পাহাড়ে টানা বর্ষণ, ধস আর পাহাড়ি ঢলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে ছয়টি, যেখানে প্রাণহারায় ৪২৭ জন। এর মধ্যে সর্বশেষ পাহাড় ধসে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সরকার। তাই পাহাড়ি এলাকা ঘিরে দুর্যোগ মোকাবেলায় ‘মহাপরিকল্পনা’ নিতে যাচ্ছে সরকার।

এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ১৫ মে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বৈঠকের বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে পাহাড়ি এলাকা ঘিরে ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে প্রতিবেদন তৈরিতে ২১ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘ভূমিধসের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা নিতে আগামী সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের শীর্ষ ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ভূমিধসের প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করে পাহাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পাদদেশের বসতি সরানো, কারিগরি বিষয়গুলো বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকারে রাখতে হবে কর্মপরিকল্পনায়।

উল্লেখ্য ১১ জুন ভারি বর্ষণে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়। এক দশকে পাহাড়ে এত প্রাণহানি আর কখনও ঘটেনি। এর আগে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ১২৭ জনের মৃত্যু হয় পাহাড় ধসের কারণে।

২০০৮ সালের ১৮ অগাস্ট চট্টগ্রামের লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে চার পরিবারের ১২ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগার পাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

২০১২ সালে ২৬ ও ২৭ জুন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে ৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৫ সালের ২৬-২৭ জুন টানা বর্ষণ, ধস আর পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ১৯ জনের মৃত্যু হয়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button