জাতীয়

অর্থমন্ত্রীর পাশে তোফায়েল আহমেদ

ঢাকা, ২১ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুর মাল আবদুল মুহিতের সমালোচনা হচ্ছে। তবে এবার তার সমালোচনার জবাব দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধাবর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় সিনিয়র সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যে ভাষায় আপনারা সংসদে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ভাষা আশা করি না।’

জাতীয় পার্টির দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু ও কাজী ফিরোজ রশীদ অর্থমন্ত্রীর বয়স নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এমনকি তার পদত্যাগও দাবি করেন তারা। এছাড়া বাজেট আলোচনায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকও ব্যাংক আমানতের ওপর বাড়তি আবগারি শুল্ক ও নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন।

তোফায়েল আহমেদ সংসদে উপস্থিত জিয়াউদ্দিন বাবলু ও কাজী ফিরোজ রশীদকেউদ্দেশ করে বলেন, ‘বয়স নিয়ে কথা বলেন, আপনার নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বয়সের কথা বিবেচনা করেন না। যিনি আপনাকে মহাসচিব বানান তারপর আবার রুহুল আমিন হাওলাদারকে বানান। যার বয়স অর্থমন্ত্রীর চেয়ে ৫ বছর বেশি। বাবলু আমার খুব প্রিয় লোক। তার মামা শ্বশুর হলেন এরশাদ। তিনি কী করে ভুলে গেল তার বয়স ৮৬ বছরের বেশি। তিনি যদি তার নেতাকে বলতেন আপনার বয়স হয়েছে, আপনি পদত্যাগ করুন। একজন সম্মানিত মানুষকে সম্মান দিতে হয়। বাবলু বলেছেন, এখন বিদায় হন। আপনাদের অর্থমন্ত্রীও ছিলেন উনি (অর্থমন্ত্রী)। এ পর্যন্ত ১২টা বাজেট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আরও দেবেন। উনার ওপর প্রধানমন্ত্রীর আস্থা আছে।’

মন্ত্রীদের বাজেট নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়েছেন। এই বাজেট কেবিনেট অনুমোদিত। কথা থাকলে কেবিনেটই সঠিক জায়গা (প্রপার প্লেস)।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী জানেন মানুষ কী চায়? ২৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। সেই দিনই তিনি অর্থমন্ত্রীকে বলবেন এটা করেন ওটা করেন। এমনভাবে অনুমোদিত হবে, বাংলাদেশের মানুষ শুধু প্রশংসা করবে না, বলবে এটা শ্রেষ্ট বাজেট। অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন কেন? আমারও পদত্যাগ দাবি করতে পারেন। আমিও এর অংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি কোনও সমস্যা থাকে তবে তিনি সেগুলো দেখবেন। আলোচনা অবশ্যই করবেন। বাজেট কি সব শুধু নেগেটিভ, এর পজেটিভ নেই?’

ভ্যাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাজেট সবার, অর্থমন্ত্রী মুখপাত্র। আপনারা আলোচনা করবেন প্রস্তাব নিয়ে। ভ্যাট নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, আশা করছি এমনভাবে করা হবে সব নিরসন হবে। এই সরকার ব্যবসাবান্ধব।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকে ২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা বলছেন আপনারা। আমি অন্যায়কে সমর্থন করি না। ব্যাংকে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর প্রত্যাশা মানুষ করে না। জিয়াউদ্দিন বাবলুও ব্যাংকের মালিক। ফিরোজ শেয়ার বাজারে দুইটা ব্রোকারেজ হাউজ আছে। আপনার বাংকের হিসাব হবে। ফিরোজ প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা। অবদান অনেক। মন্ত্রীও ছিলেন। অভিজ্ঞতা আছে। সব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা আছে।’

চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘মিল মালিকরা বাজারে চাল ছাড়ছেন না। আমরা শুল্ক কমিয়েছি। পার কেজি ছয় টাকা দাম কমবে। এটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। আপনারা ২০১৪ সালে এই চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সফল হননি। আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিার সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে আনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ওই নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন।’

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া খুব খারাপ ভাষায় বক্তৃতা করেন। আমাদের জালেম সরকার বলেন। প্রধানমন্ত্রীর নামটা বলার সময়ে আগে যে বিশেষণ রয়েছে সেটাও বলেন না। শুনতেও খারাপ লাগে। আমরাও ইচ্ছা করলে সেইভাবে বলতে পারতাম। খালেদা জিয়ার মনের মধ্যে ক্রোধ, হিংসা, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভিশনকে অনুসরন করে আজকে তিনি ভিশন-২০৩০ দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে যাবেন না। আবার বললেন এক কাপড়ে আমাদেরকে বিদায় করবেন।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button