জেলার সংবাদ

গজারিয়ায় দীর্ঘ যানজট টাঙ্গাইলে ধীরগতি

ঢাকা, ২৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আর অল্প কদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। ফলে দুপুরের পর থেকেই ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে রাজধানীর রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে। অপরদিকে সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে ছিল যানজট। দুপুরের পর তা আরো দীর্ঘ হয়। পাশাপাশি ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে দীর্ঘ যানজট না থাকলেও যানবাহন চলেছে থেমে থেমে। এদিকে, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-কুমিল্লা সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন থেকে অধিকাংশ ট্রেনই ছেড়েছে সিডিউল অনুযায়ী।

কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেনগুলো কমলাপুর স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়েছে। আশা করি অন্য ট্রেনগুলোও নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাবে। তিনি জানান, গতকাল কমলাপুর থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ ৬৮টি ট্রেন ছেড়েছে। এতে প্রায় ৭৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়।

যারা আগে টিকিট কেটে রেখেছিলেন, তারা নির্বিঘ্নে যাত্রা শুরু করেছেন। আর যারা টিকিট কাটেননি তাদের টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ছুটতে দেখা গেছে গতকাল।

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ঢল নামে দুপুরের পর থেকেই। দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।

অন্যান্যবার উত্তরের পথে যাওয়া যাত্রীদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হলেও গতকাল যাত্রী ভোগান্তির তেমন একটা খবর পাওয়া যায়নি। তবে চার লেনের নির্মাণ কাজের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাঈল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলেছে ধীরগতিতে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় ধরনের যানজটের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মাহবুব আলম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোথাও কোথাও যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা দিলেও অসহনীয় যানজট তৈরি হয়নি। যানজট নিরসনে সড়কে এক হাজারের মতো পুলিশ সদস্য কাজ করছেন।

এদিকে, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল স্বাভাবিক। শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী যানের তেমন চাপ না থাকায় ফেরি কর্তৃপক্ষ ট্রাক পারাপার করে।

শিমুলিয়া ঘাটস্থ বিআইডব্লিউটিসির এজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ বলেন, গতকাল সকালে ছোট গাড়ির চাপ কিছুটা থাকলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে তা ফাঁকা হয়ে যায়। যাত্রীবাহী গাড়ি না থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক পার করছি। তিনি আরো বলেন, ঈদে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য এবার ৪ টি রো রো ফেরিসহ ১৮টি ফেরি বহরে রয়েছে। শুক্রবার এ ঘাটে  যানবাহনের চাপ বেড়ে যেতে পারে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুইটি মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তায় পুলিশ আনসারসহ প্রায় ৫ শতাধিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে সাদা পোশাকে ডিবি, পুলিশের বিশেষ শাখাসহ র্যাব সদস্যরা কাজ করবে। মূল কথা, ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যানজট নিরসনে পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া কোন সি-বোট ঘাট থেকে ছাড়তে দেওয়া হবে না এবং অতিরিক্ত যাত্রী কোনো নৌ-যানে বহন করতে দেওয়া হবে না।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুর রহমান বলেন, যানজট আছে, থাকবে। কিন্তু সহনীয় পর্যায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। আশা করছি, যতটা ধারণা করা হচ্ছে তেমন সমস্যা হবে না। যানজট নিরসনে সড়কে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মূল সমস্যা দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। গত বছর কোরবানি ঈদের সময় চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে দুটোই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছিল। ফলে দুই ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়েছিল। এ কারণে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছিল। তবে এবারের চিত্রভিন্ন। চারটি ঘাটের মধ্যে একটি ঘাটের কিছু সমস্যা আছে। বাকি তিনটি ঘাট পুরোপুরি ভাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে খুব একটা সমস্যা হবে না ঈদে ঘরমুখো মানুষদের। তিনি বলেন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে সড়কের অবস্থা অনেকটা ভালো।

গজারিয়ায় যানজট:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গতকাল ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছিল। মহাসড়কের গজারিয়া অংশের মেঘনা সেতু থেকে বাউশিয়া পর্যন্ত এলাকায় এই যানজট ছিল দিনভর। বুধবার  রাতভর থেমে থেমে যানজট থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা তীব্র আকার ধারণ করে। মহাসড়কের উভয় পাশের যানজটের তীব্রতা সময়ের সাথে সাথে বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে ভোগান্তিতে পোহান ঘরমুখো মানুষ।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হাসেম উদ্দিন বলেন, গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় যাত্রীবাহী যানবাহন দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি।

যাত্রীদের নিরাপত্তা

এদিকে যাত্রীরা যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র্যাব এবং বিআরটিএ’র সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দল টার্মিনালগুলোতে রয়েছে। বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের সচেতনতার জন্য দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নাটিকা। এসব নাটিকায় যাত্রীদের নিরাপদে ভ্রমণ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হচ্ছে। অপরিচিত কারও কাছ থেকে কোনো কিছু না খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কীভাবে অপরিচিত লোক ক্ষতি করতে পারে, এ ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জনসচেতনতার জন্য বিভিন্ন পোস্টারে অজ্ঞান ও মলম পার্টির বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button