জাতীয়

নামাজের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ

ঢাকা, ২৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের দ্বারে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে এই ঈদ। আনন্দের দিনে ধনী, গরিব ভেদাভেদ ভুলে ঈদের নামাজে এক কাতারে শামিল হন। আর দু-তিন দিন পরেই কাঙ্ক্ষিত সেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। জাতীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দেশের প্রধান ঈদ জামাত।

এখানেই দেশের রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিচারপতি ও কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক কাতারে নামাজ আদায় করবেন।জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।

জাতীয় ঈদগায় একসঙ্গে লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য প্রস্তুত হাইকোর্টসংলগ্ন বিশাল এই জাতীয় ঈদগাহ ময়দান।

সরেজমিনে  ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ জামাতের জন্য সুসজ্জিত করে প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে। ইতিমধ্যে ৪৩ হাজার বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পিয়ারু সর্দার অ্যান্ড সন্স ডেকোরেটরের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট জাতীয় ঈদগাহ ময়দানটি প্রস্তুত করতে ১৮ রমজান থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত ১৩০ জন দিন-রাত কাজ করেছে।

তিনি বলেন, ‘পুরো মাঠে বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি ও ত্রিপল টানানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।বৃষ্টিতে যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য ওপরে দেওয়া হয়েছে মোটা ত্রিপলের ছাউনি। পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

জাতীয় ঈদগার সার্বিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

জাতীয় ঈদগাহ মাঠের চারপাশে আছে দেয়াল ও দেয়ালের ওপরে খাঁজকাটা লোহার কারুকাজ। এ দেয়াল ও লোহার কারুকার্য ঘেঁষে লাগানো হয়েছে নতুন রং। ওজু করার জন্য পানির ট্যাপগুলোকে ঠিকঠাক করে লাগানো হয়েছে। ১৪০ জন মুসল্লি এক সঙ্গে ওজু করতে পারবেন এখানে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট থাকবে ঈদগাহ মাঠে। মাজারের টয়লেট ব্যবহার করবেন ভিআইপিরা। ঈদগাহ মাঠে ৭০০ সিলিং ফ্যান, ৪৬০টি লাইট এবং ৫৪টি মেটাল লাইট লাগানো হবে। ৬০ থেকে ৭০টি মাইক লাগানো হবে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে। ঈদগাহ মাঠে ফটক রাখা হয়েছে তিনটি। মূল গেট ছাড়াও দক্ষিণ পাশে ও মাজারের দিকে একটি গেট করা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগার দক্ষিণ পাশে নারীদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য পর্দা দিয়ে আলাদা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৫ থেকে ৬ হাজার নারী এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের নামাজের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মুসল্লিদের নিরাপত্তা দিতে মাঠে তৈরি করা হয়েছে র‌্যাব এবং পুলিশের জন্য দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। নিরাপত্তার সঙ্গে ঈদগাহ মাঠ ও এর আশপাশে লাগানো হয়েছে  কোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাসহ আধুনিক সরঞ্জামাদি।

ঈদগাহ ময়দানের চারপাশজুড়ে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সিসি ক্যামেরায় থাকবে সার্বক্ষণিক নজরদারি। ভিআইপিদের জন্য ভেতরে প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গা আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকবে।

এদিকে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা বিষয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেছেন, ঈদের জামাতে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো কিছু সঙ্গে আনা যাবে না।

তিনি বলেন, প্রয়োজন না হলে আমরা মুসল্লিদের পানির বোতল আনতেও নিরুৎসাহিত করব। তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, যথাসম্ভব ফ্রি আসার চেষ্টা করবেন। এতে করে আমাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শুধু জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।’ নিরাপত্তার জন্য অনেকগুলো ডিভাইস মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button