আন্তর্জাতিক

আল জাজিরা বন্ধ করাসহ কাতারকে কঠোর শর্ত দিলো সৌদি জোট, নিন্দার ঝড়

ঢাকা, ২৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বন্ধ করতে দোহার ওপর চাপ জোরালো করেছে সৌদি আরবসহ চার আরব দেশ। সংবাদমাধ্যমটি বন্ধ করার জন্য কাতারকে শর্ত বেঁধে দিয়েছে তারা। কাতারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের চলমান উত্তেজনা নিরসনে দোহার কাছে শুক্রবার চার আরব দেশের পাঠানো ১৩টি শর্তের একটি হলো আল জাজিরা বন্ধ করে দেওয়া।
শুধু আল জাজিরা নয় কাতারের সরাসরি অনুদান প্রাপ্তসহ অন্যান্য সংবাদপত্র আরাবি২১, রাসদ, আল আরাবি আল-জাদেদ ও মিডলইস্ট আই বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর এরপরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে সাংবাদিকদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন। তারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এ সিদ্ধান্তের নিন্দাও করেছেন।
আল জাজিরা বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি। কাতার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর দীর্ঘদিনের বিবাদের একটি সূত্রও এটি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভিযোগ, আল জাজিরা পক্ষপাতপূর্ণ সংবাদ উপস্থাপন করে এবং আঞ্চলিকভাবে সমস্যা তৈরি করে। এছাড়া এ সংবাদমাধ্যমটি আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ইস্যু নিয়েও নাক গলায় বলে অভিযোগ করে থাকে তারা। অবশ্য, বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে আল জাজিরা। এবার কাতারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে সেই সংবাদমাধ্যমটি বন্ধ করে দেওয়ার শর্ত দিয়েছে সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন।
মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েতের মাধ্যমে কাতারের কাছে ১৩ দফা শর্তবিশিষ্ট ওই তালিকা পাঠিয়েছে সম্পর্ক ছিন্নকারী চার আরব দেশ। একই সঙ্গে বলে দেওয়া হয়েছে, কাতার যদি আরব দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার চায় তবে অবশ্যই এ ১৩টি শর্ত পূরণ করতে হবে। ওই শর্তের তালিকার একটি কপি হাতে পাওয়ার দাবি করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবরটি জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ‘যুক্তিসঙ্গত ও কার্যকর’ দাবি-দাওয়া পেশ করার জন্য কাতারের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানোর পর শর্তগুলো পাঠানো হলো। সেখানে কাতারকে আল জাজিরা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়াও ১০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস ও তুরস্কের একটি সামরিক ঘাটি বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
কাতারকে সৌদি জোট আরও যে শর্তগুলো দিয়েছে:
অন্য আরব দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করা, চার দেশের মানুষকে নাগরিকত্ব না দেওয়া এবং বর্তমানে তাদের ভূখণ্ডে বসবাসরতদের বহিষ্কার করা। কেননা, এ পদক্ষেপকে চার দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে কাতারের হস্তক্ষেপ বন্ধের প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে, চার দেশ যাদেরকে সন্ত্রাসী বলে মনে করে তাদেরকে হস্তান্তর করা, সৌদি আরব ও অন্য দেশগুলোর যেসকল বিরোধী ব্যক্তিকে কাতার তহবিল সরবরাহ করে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিসিসির সঙ্গে এক কাতারে থাকা, আল জাজিরার পাশাপাশি আরাবি ২১ এবং মিডল ইস্ট আইসহ অন্য সংবাদ মাধ্যমগুলোতে তহবিল বন্ধ করা, অনির্দিষ্ট পরিমাণের ক্ষতিপূরণ সরবরাহ করা, চার আরব দেশের একটির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাতারকে আইএস, আল-কায়েদা এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শর্তগুলো মানা না মানার ব্যাপারে কাতারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি এর আগে বলেছিলেন, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা আলোচনায় যাবেন না।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন জঙ্গিবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। প্রথমে সৌদি আরব ও বাহরাইন সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং পরে তাদের ধারাবাহিকতায় মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া এবং ইয়েমেনসহ আরও কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয়। ইয়েমেনে কথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের আরব জোট থেকেও বাদ দেওয়া হয় কাতারকে।
সাংবাদিক সংগঠনের নিন্দা
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টাস উইথআউট বর্ডার আল জাজিরাসহ কাতার ভিত্তিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়ার শর্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনের মধ্যপ্রাচ্য  ও উত্তর অফ্রিকা বিষয়ক ডেস্কের প্রধান আলেক্সজান্দ্রা আল খাজেন বলেন, ‘যদি এই সিদ্ধান্ত কখনো বাস্তবায়িত হয় তবে এটি বাস্তবায়ন ও তারা ফলাফল নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন।
প্যারিস থেকে আলজাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যে কোন ধরনের সেন্সরশীপের বিরুদ্ধে আমরা। এটা হলে আরব ভিত্তিক গণমাধ্যমগুলোর বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদী হুমকীর মুখে পড়বে।
ইউকে ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টের সভাপতি টিম ডওসন বিষয়টি নিয়ে তার চরম উদ্বিগ্নে কথা জানিয়ে দ্রুত এই শর্ত প্রত্যাহার করে তিনে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান।
খাজান মনে করেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বিভাগের মানুষের কর্মক্ষেত্রের উপরও চাপ তৈরী হবে। কেননা হয় তাদেরকে তখন বাধ্যহয়ে পদত্যাগ করতে হবে। রয়টার্স/আল জাজিরা।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button