জাতীয়প্রধান সংবাদ

এবার রোজা ২৯টি, ঈদ সোমবার

ঢাকা, ২৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

জোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ বছর রোজা হবে ২৯টি এবং ঈদ হবে ২৬ জুন সোমবার। শুধু এ বছরই নয় আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিটা ঈদের দিন তারিখ, প্রতিটি হিজরি মাস শুরু হওয়ার সুনির্দিষ্ট দিনের কথাও বলা হয়েছে। যদিও রমজান মাসের রোজা ২৯ নাকি ৩০টি হবে, এ নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটির ওপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশের মানুষদের।

এ বছর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর কবে হবে? এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই কারও মাঝে। ছেলে-বুড়ো সবার মাঝেই রোজা ২৯টি নাকি ৩০টি হবে, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। আর এর অবসান ঘটবে ২৫ জুন রোববার। এ দিন সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে ঈদ কবে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

কিন্তু জোতির্বিজ্ঞানিরা অনেক আগেই হিসাব করে বের করে ফেলেছেন, এবার রোজা হবে ২৯টি, ঈদ হবে সোমবার। এমনকি তারা আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিটা ঈদের দিন তারিখ, প্রতিটি হিজরি মাস শুরু হওয়ার সুর্নির্দিষ্ট দিন জানেন।

অবশ্য ধর্মীয় বিষয় হওয়ার কারণে তারা ‘নিশ্চিত’ না বলে ‘সম্ভবত’ বলছেন।

বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রয়াত অধ্যাপক আনোয়ারুর রহমান খান আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাঁদের এই গতিবিধির হিসেব করে গেছেন। ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি ঈদের দিনক্ষণ, প্রতিটি হিজরি মাস শুরুর সময় এখন জোতির্বিজ্ঞানীদের জানা।

সোসাইটির সহ-সভাপতি মুনির হাসান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বলছি, নতুন চাঁদের জন্ম হবে শনিবারে। কিন্তু সে চাঁদটা দেখা যাবে না। কারণ সেটার আলোকিত অংশ এত কম যে সেটা আমাদের চোখে পড়বে না। রোববারে সন্ধে সাতটা একুশ মিনিটে চাঁদের আলোকিত অংশ অনেক বেশি অর্থাৎ ১৪% থাকবে, ফলে সেটা খালি চোখে দেখা যাবে।’

এটা কিন্তু শুধু চাঁদের বেলায় না, আমরা আপনাকে বলতে পারব এর পরের সূর্যগ্রহণটি কবে হবে, এর পরের চন্দ্রগ্রহণটা কবে হবে। খুবই সহজ হিসেব এটা, ক্যালকুলেশন করেই বের করে ফেলা যায়।

অথচ প্রতি বছর ঈদ এলেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে ২৯ রোজা শেষে ঈদ হবে না কি ৩০ রোজা শেষ ঈদ হবে। এই প্রশ্নের উত্তর জানা যায় ২৯তম রোজার সন্ধ্যায়।

কারণ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ওইদিন সন্ধ্যায় একটি বৈঠক করে ঠিক করে মাসটি ২৯ দিনে হবে নাকি ৩০ দিনে হবে। আর এজন্য তাদের ব্যবহৃত একমাত্র পদ্ধতি হলো খালি চোখে চাঁদ দেখা। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে এই চাঁদ দেখা কমিটির নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে স্বচক্ষে চাঁদ দেখতে হবে।

কিন্তু যেখানে বৈজ্ঞানিক হিসেব নিকেশের মাধ্যমে যেখানে দিনটি সম্পর্কে আগেভাগেই নিশ্চিত জোতির্বিজ্ঞানীরা, সেখানে শেষ দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা কেন চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ভারপ্রাপ্ত খতিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘যদি তাদের হিসেবে ১% গড়মিল হবারও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে কি করবো আমরা? সেক্ষেত্রে আমাদের দেখার উপরেই নির্ভর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদ, রোজা, হিজরি মাস ইত্যাদি যেহেতু ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী চলে, সেহেতু তারা ধর্মীয় নির্দেশনা মেনেই এটা করবেন, এটাই নিয়ম’।

অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটি যদিও তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার সন্ধ্যায় চাঁদ উঠবার কথা হিসেব নিকেশ সহকারে বলে দিচ্ছে, কিন্তু এখানে তারা ‘নিশ্চিত’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘সম্ভাবনা’ শব্দটি ব্যবহার করছে ওই ইসলামী নিয়মের ব্যাপারটি মাথায় রেখেই।

যদিও সোসাইটির মুনির হাসান বলেন, তারা হিসাব শুরু করার পর থেকে অদ্যবধি কখনও ভুল প্রমাণিত হয়নি, আশা করেন ভবিষ্যতে ভুল হবে না।

কিন্তু এটাও ঠিক, আপনি যদি এখনই জেনে যান ২০২৫ সাল বা তারও অনেক বছর পর পর্যন্ত প্রতিটি ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ, তাতে উত্তেজনা কোথায়।

বরং ২৯তম রোজার সন্ধ্যায় নিজ চোখে চাঁদ দেখে ঈদের দিনক্ষণ সম্পর্কে জানার মধ্যে একটি আনন্দের ব্যাপার আছে বৈকি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button