জেলার সংবাদ

শিশুকে ধর্ষণের পর বিয়ে, সহায়তার অভিযোগে মা গ্রেফতার

ঢাকা, ২৪ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর জোর করে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছে। শিশুটিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করেছেন র‌্যাব-১১’র সদস্যরা। এ সময় ওই ধর্ষক এবং শিশুটির মাকেও গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ইয়াসিনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ওই মা নিজ শিশুকে ধর্ষণ ও বিয়েতে সহায়তা করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন। থানার ওসি জিজি বিশ্বাস জানিয়েছেন, তেজকুনিপাড়া এলাকার এক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে শিশুটি। শিশুটি বাদী ও সেই মায়ের একমাত্র সন্তান।

মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেন, ১৮ জুন বিকালে তিনি বাসায় ফিরে জানতে পারেন তার স্ত্রী ও মেয়ে ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাসার বাইরে গেছেন। কিন্তু সন্ধ্যার পরও তারা বাসায় ফেরেনি। পরে তিনি স্ত্রীর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

ফোন বন্ধ পাওয়ায় তেজগাঁও থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। পুলিশের পরামর্শে তিনি পরদিন ১৯ জুন তেজগাঁও থানায় একটি জিডি করেন। পরে তিনি কুমিল্লায় তার শ্বশুরকে ফোন করেন। শ্বশুরের কাছ থেকে জানতে পারেন স্ত্রী ও মেয়ে মুন্সীগঞ্জে আছে। তিনি বিষয়টি র‌্যাব-২ কে জানান। পরে র‌্যাব-২ এর সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি র‌্যাব-১১ কে জানায়।

বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-১১ এর একটি দল মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়ায় ইয়াসিনের কথিত নানাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। ওই বাসা থেকে ইয়াসিন ও শিশুটির মাকেও গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে কয়েকজন পালিয়ে যায়।

বাদী আরও লেখেন- পরে শিশুটি র‌্যাব এবং তাকে জানায়, ১৮ জুন তাকে নিয়ে তার মা ফার্মগেট এলাকায় যায়। সেখানে কয়েকজন মিলে তাকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে হাতে একটি আংটি পরিয়ে দেয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ নিয়ে একটি বাড়িতে ওঠে।

সেখানে নিয়ে ইয়াসিন তাকে ধর্ষণ করে। ২১ জুন মুন্সীগঞ্জ নিয়ে স্থানীয় আলম চান ও আনোয়ারা বেগমসহ স্থানীয় মেম্বার এবং মৌলভী মিলে ইয়াসিনের সঙ্গে ওই শিশুটিকে বিয়ে দেয়। সব কাজেই তার মা সহায়তা করে।

শিশুটির এক স্বজন জানান, ইয়াসিনের সঙ্গে শিশুটির মায়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ইয়াসিনকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button