ফিচার

হতদরিদ্র অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা পাঁচ প্রতিভাবান

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস ২৪):

তাদের অপরিসীম প্রতিভার বিশেষ অবদান মানব সভ্যতাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। তারা কেউ বিজ্ঞানী, কেউ লেখক কিংবা কেউ শিল্পীর স্বীকৃতি পেলেও আর্থিক সুখ পাননি। আবার কেউ কোনোটাই পাননি। ফলে তাদের হতদরিদ্র অবস্থায়ই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে।

এদের মধ্যে আমেরিকার সঙ্গীতের জনক বলা হয় স্টিফেন ফস্টারকে। যিনি সঙ্গীতের ‘হল অফ ফেমে’ জায়গা করে নিয়েছেন। অথচ এই গীতিকার যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পেতেন, তাতে তার সংসারই চলত না। ফলে অভাব আর অনটনেই কেটেছে তার জীবন। তিনি ১৮৬৪ সালে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে মারা যান। শেষ সময়ে তার পকেটে মাত্র ৩৮ ডলার ছিল।

আবার ইতালির বিজ্ঞানী অ্যান্তোনিও মেউস্যি আবিষ্কার করেছিলেন টেলিট্রোফোনো। কিন্তু আমরা টেলিফোন আবিষ্কারক হিসেবে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের নাম জানলেও জানিনা তার নাম। বলা হয়, গ্রাহাম বেলের কাছে অ্যান্তোনিও আবিষ্কারের কাগজপত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, গ্রাহাম বেল তার আবিষ্কার চুরি করে নিজের বলে প্রচার করেন। পরে একদিকে গ্রাহাম বেল বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। আর অন্যদিকে মেউস্যি হেরে যান আইনি লড়াইয়ে। ১৮৮৯ সালে পৃথিবী থেকে কপর্দকহীন অবস্থায় বিদায় নেন।

একই ভাবে বিশ্বের ইতিহাসে ছাপাখানা আবিষ্কারক জোয়ান গুটেনবার্গ। তার এ আবিষ্কার মানবসভ্যতাকে এক ধাক্কায় বহুদূর এগিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শেষ দিকে দেনার দায়ে হাতছাড়া হয়ে যায় তার সাধের ছাপাখানা। এমনকি মুদ্রিত বাইবেলের অর্ধেকের ওপরেও তার মালিকানা চলে যায়। পরে হতদরিদ্র অবস্থায় মুদ্রণের জনক গুটেনবার্গ মৃত্যুবরণ করেন ১৪৬৮ সালে।

এদিকে উনিশ শতকের শুরুতে জোসেফ গ্যান্ডি যখন ব্রিটেনে একের পর এক সেরা ড্রয়িং করছেন কেউ চিনত না তাকে। অভাব আর অনটনে থাকা এ প্রতিভার শেষ দিনগুলো কেটেছে পাগলা গারদে। এমনকি কোথায় তার সমাধি তাও কেউ জানেন না। কিন্তু এখন তাকে অন্যতম সেরা ‘আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং’-এর শিল্পী বলে মানা হয়।

যখন হার্মান মেলভিল লেখালেখি করতেন কেউ জানতেনই না তিনি লেখক। তবে মৃত্যুর ৩০ বছর পর লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। তার অমর সৃষ্টি মবি ডিক। তিনি ১৯ বছর কাস্টমস ইন্সপেক্টরের চাকরি করে সংসার চালিয়েছেন। ১৮৯১ সালে মার্কিন সাহিত্য জগতে কার্যত তিনি পরিচয়হীন অবস্থায় প্রয়াত হন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button