জেলার সংবাদ

পুলিশ হেফাজতে সাগরের মৃত্যু: ১১ বছর পর তদন্ত

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস ২৪):

নওগাঁর মান্দায় পুলিশ হেফাজতে মনোয়ারুল ইসলাম সাগর (২৭) মৃত্যু ঘটনার ১১ বছর পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নওগাঁর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জাহাঙ্গীর আলম ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জাহাঙ্গীর আলম তার চেম্বারে পাঁচজনের জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। এ সময় সাগরের ছোট বোন ফাতেমাতুজ্জোহরা সাথী, তার স্ত্রীর বড় ভাই মঞ্জুরুল আলম ও নজরুল ইসলাম, প্রতিবেশী সুলাইমান আলী ও মাহবুব আলী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দী দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ছিল (২১ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় সাক্ষ্য গ্রহণ। বিকেলে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জাহাঙ্গীর আলম তার চেম্বারে জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। নিহতের খালাতো ভাই তিতাস মোস্তফা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দী দেন। এ সময় সাগরের ছোট বোন ফাতেমাতুজ্জোহরা সাথী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মামলার সমুদয় কাগজপত্র এবং গোপনীয় কিছু কাগজপত্র জমা দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে সন্ত্রাসী হামলায় চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পোরশা থেকে সাগরকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ভোরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মান্দা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সাগরের মা মর্জিনা আলম শাহ মান্দা থানার তৎকালীন ওসি শহিদার রহমান, এসআই তোফাজ্জল হোসেন খান, এসআই শাকিল আহমেদ, পোরশা থানার ওসি আনিসুর রহমান, মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আইয়ুব আলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলি আদালতে (মান্দা) হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনা তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।
২০১১ সালে সিআইডি আদালতে জমা দেওয়া তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে এ মৃত্যুকে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলে বাদীপক্ষ এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আসামি তোফাজ্জল হোসেন খানের করা একটি রিট মামলার আপিলের শুনানি নিয়ে রিটটি না মঞ্জুর করে ঘটনাটির বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩১ মে এই আদেশ দেন। আদেশ গ্রহণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। সাগরের ছোট বোন ফাতেমাতুজ্জোহরা সাথী বলেন, মামলার আসামীরা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় মামলার রায় হতে বিলম্ব হচ্ছে। যত বিলম্ব হোক না কেন আমি এর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার চায়।
এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা বলেন, আসামিপক্ষ বেশ কয়েকবার মামলাটিকে বিলম্বিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই হাইকোর্ট তাদের আবেদন না মঞ্জুর করেছেন। সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি রিট আপিলের শুনানি নিয়ে মামলাটির বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button