জেলার সংবাদ

ছবি পাল্টে ভিক্ষুকের জমি বিক্রির চেষ্টা!

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস ২৪):

দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষুকের ১৪ শতক জমির ওপর নজর পড়ে এলাকার ধন্যাট্য ব্যক্তি কছিম উদ্দিনের। আর এ জমি বিক্রির সকল কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করেন দলিল লেখক ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম সরকার।

ময়মনসিংহের নান্দাইল সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে।ছবি পাল্টানোর ঘটনাটি সাবরেজিস্ট্রারের নজরে পড়ায় তিনি নিবন্ধন না করে দলিলটি জব্দ করেছেন। এই কর্মের পর গত দুই দিন ধরে অফিসে আসছেন না দলিল লেখক যুবলীগ নেতা আব্দুস সালাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা খাতুন (৬৬)। তিনি পেশায় ভিক্ষুক। মনোয়ারার চাচতো ভাই নয়ন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার বোনের ১৪ শতক ফসলি জমির ওপর নজর পড়ে এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তি মো. কছিম উদ্দিনের। তিনি কোনও উপায়ে জমিটি করায়ত্ত করতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। পরে কৌশল করে মর্তোজা নামে এক নারীকে মনোয়ারা সাজিয়ে গত সোমবার সাফকবলা দলিল লিখে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন দলিল লেখক আবদুস সালাম সরকার।

সালাম জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক বাহার। আবু বক্কর বলেন, “এ ঘটনায় সে (আব্দুস সালাম) জড়িত থাকলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কার্যালয়ে গেলে সাবরেজিস্ট্রার মো. নূর নেওয়াজ বলেন, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আঠা দিয়ে লাগানো দাতা ও গ্রহিতার দুটি ছবি লিখিতভাবে শনাক্ত করেছেন দলিলের লেখক আবদুস সালাম সরকার। তখন কার্যালয়ে উপস্থিত দাতা-গ্রহিতার চেহারার সঙ্গে দলিলে লাগানো ছবি দুটি মিলিয়ে দলিলটি তালিকাভুক্ত করার অনুমতি প্রদান করেন। এ অবস্থায় নাক-মুখ ঢাকা নারীকে মুখ থেকে কাপড় সরাতে বললেই তিনি দ্রুত এজলাসের সামনে থেকে চলে  যান।

কিন্তু দলিল লেখক সালাম দলিলটি তখন জমা না দিয়ে কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে নিয়ে যান। পরে দলিলে লাগানো ভুয়া দাতা মর্তোজার ছবি পাল্টে মনোয়ারার ছবি লাগিয়ে দলিলটি জমা দেওয়ার জন্য কার্যালয়ে আসেন। বিষয়টি সাবরেজিস্ট্রারের নজরে পড়লে তিনি দলিল লেখক সালামকে চ্যালেঞ্জ করেন। তখন সালাম নিজেকে যুবলীগ নেতা বলে পরিচয় দিয়ে হম্বিতম্বি শুরু করেন। কিন্তু সাবরেজিস্ট্রার নিবন্ধনের অনুমতি বাতিল করে দলিলটি জব্দ করেন। জানা যায়, ১৪ শতক জমি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দলিল লেখক ও যুবলীগ নেতা আবদুস সালাম সরকার  রাগান্বিত হয়ে বলেন, “এই বিষয়ে আপনে বলার কে? এটা আমাদের ঘরোয়া ব্যাপার। বেশি  বাড়াবাড়ি কইরেন না। ”

এ ঘটনায় আজ বুধবার তার খোঁজ নিতে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “ঘটনা সর্ম্পকে তিনিসহ সকল দলিল লেখত অবগত হয়েছেন। তার (সালাম সরকার) এ অপকর্মের কারণে সবাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আগামী শনিবার সমিতির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভায় তার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ”

এদিকে, এ ঘটনা সম্পর্কে অপর এক দলিল লেখক মো. তৌহিদ সরকার জানান, এ ঘটনায় তিন ধরনের জালিয়াতি হয়েছে। এলাকার কাজল মিয়া নামের একজনকে ক্রেতা সাজিয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমির সম্পাদনা করা হয় গত দুই মাস আগে। পরে ওই কাজলকে টাকা দিয়ে দেন বর্তমান ক্রেতা কছিম উদ্দিন। এ  অবস্থায় কছিম উদ্দিন অবৈধ পন্থায় কাজলের স্ত্রী মর্তোজাকে মনোয়ারা বানিয়ে জমির দলিল নিবন্ধনের চেষ্টা চালান।

এলাকার ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা জানান, কঠিন জালিাতির মাধ্যমে ভিক্ষুক মনোয়ারা বেগমের জমি বিক্রির চেষ্টা হয়েছিল। এ ঘটনা মনোয়ারা জানেন না। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন।

জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও দলিল লেখকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া প্রসঙ্গে সাবরেজিস্ট্রার মো. নূর নেওয়াজ বলেন, তিনি এমপি স্যারের এলাকার লোক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাই তাকে সম্মান দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে এমপি স্যারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ৯ নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন বলেন, “এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে সে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ”

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button