সাক্ষাৎকার

যদি আগ্রহ ফিরে পাই তাহলে আবার টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত হব: শামীম শাহেদ

ঢাকা, ০৩ নভেম্বর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মনের কথা তার যাত্রা পথের ৭ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। আফসানা মিমির উপস্থাপনা ও শামীম শাহেদের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটির প্রথম শুটিং সম্পন্ন হয় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে। প্রথম প্রচার শুরু হয় ২৭ ডিসেম্বর থেকে। অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বে ছিল একজন পেশাদার জল্লাদের সাক্ষাৎকার। পর্দার আড়ালে বসে থেকে জল্লাদ তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। এভাবেই প্রতিটি পর্বে এক বা একাধিক ব্যক্তি তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। এর মধ্য দিয়ে সতর্ক করা হয় দর্শকদের। মনের কথা অনুষ্ঠানে উঠে আসে অজ্ঞান পার্টিমলম পার্টিডোমগাড়ি চুরিভেজাল শিশুখাদ্যভুয়া ডাক্তারভুয়া কসমেটিকস্ বিক্রেতাফরমালিন দেয়া খাবারসহ বিচিত্র সব বিষয়।

প্রথম অংশের সামান্য বিরতির পর দ্বিতীয় দফায় নতুনভাবে এই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা শুরু করেন বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান শামীম শাহেদ। সাজ্জাদ হুসাইনের প্রযোজনায় এবারের পর্বগুলোতে উঠে আসে আরও নতুন কিছু বিষয়। এর মধ্যে আছে হিজড়া সেজে চাঁদাবাজিসাইবার ক্রাইমপকেটমারজমির দলিল করার ক্ষেত্রে প্রতারণাটাকার বিনিময়ে সঙ্গীনিসিঙ্গেল মাদারভুয়া সাক্ষীইয়াবা বিক্রেতাহাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্যজ্বীনের বাদশা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখযোগ্য।  

মনের কথার সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান এবং টেলিভিশনের নানাদিক নিয়ে কথা বলে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক এবং বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান শামীম শাহেদের সঙ্গে।

একটি অনুষ্ঠান সাত বছর সফলতার সঙ্গে চালিয়ে নিতে নিঃসন্দেহে খুব ধৈর্য্য এবং নিষ্ঠার প্রয়োজন?

শামীম শাহেদ: একটা টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য সাত বছর খুব বেশি সময় নয়। আবার খুব কম সময়ও নয়। আমরা চাই বাংলাভিশন মানুষের প্রয়োজনের চ্যানেল হয়ে উঠুক। সেই লক্ষ্যেই মনের কথা করা। আশা করি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

মনের কথা অনুষ্ঠানের ধারণা বেশ চমৎকার। পর্দার আড়ালে বসে থেকে অপরাধী তার মনের কথা বলেন। দর্শক সচেতন হয়। এই ধরনের আইডিয়া আশেপাশের দেশের চ্যানেলে খুব একটা দেখা যায় না। এই ধরনের আইডিয়া আপনি কীভাবে পেলেন?

শামীম শাহেদ: দেখুনএখন থেকে তের বছর আগে আমি যখন অপি করিমকে নিয়ে আমার আমি করি তখন আমার মনে একটাই ভাবনা ছিল সাধারণ দর্শক হিসেবে আমি আসলে তারকাদের কাছে কী জানতে চাই, তাই আমি দর্শকের সামনে তুলে ধরব। সেই ভাবনা থেকে আমার আমি। মনের কথা করার সময়ও আমি ভেবেছি আশেপাশে এত যে ক্রাইম হচ্ছে তা থেকে কীভাবে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে বাঁচানো যায়। তখন ভাবলাম একটা পর্দার আড়ালে বসে ক্রিমিনালরা যদি তাদের কথাগুলো বলে তাহলেই আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব। আর্টিক্যাল থার্টিনাইন করার সময়ও আমি ভেবেছি আইন এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা সম্ভব। আপনার আগামী করার সময় ভেবেছি চাকরির খবরগুলো সবার সামনে তুলে ধরে চাকরি প্রার্থীদের সেই চাকরির জন্য তৈরি করা সম্ভব। এভাবেই দেখলাম বাংলাভিশন এক সময় এক নম্বর হয়ে উঠল।

আপনি সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন সফল অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে বাংলাভিশনকে শীর্ষে তুলে এনেছেন। আপনার মতে আমাদের টেলিভিশন মিডিয়া এখন কোন পর্যায়ে আছে?

শামীম শাহেদ: আমাদের দেশের টেলিভিশন মিডিয়া যে খুব একটা এগিয়েছে এটা বলা মুশকিল। এখানে প্রফেশনালিজম এর অনেক অভাব আছে। প্রফেশনালি যোগ্য মানুষরা যখন আমাদের টেলিভিশন মিডিয়ার ডিসিশন ম্যাকিংয়ের জায়গায় বসবে তখন আমরা মূল গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারব।

আপনি প্রায়ই বলেন আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সামনের সময়টা অনেক কষ্টের, আপনার ব্যাখ্যা শুনতে চাই।

শামীম শাহেদ: আগামী চার-পাঁচ বছর আমাদের টেলিভিশন মিডিয়ার জন্য খুব কঠিন একটা সময়। কারণ এই সময়টাতে আমাদের টেলিভিশন সম্প্রচার ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। টেলিভিশন সম্প্রচার ব্যবস্থা এই সময়ের মধ্যে এনালগ থেকে আইপি সিস্টেমে কনভার্ট হবে। ফ্রি টু এয়ার থেকে পে-চ্যানেলে রূপান্তরিত হবে। এটা যত দেরিতে হবে তত আমাদের কষ্ট বাড়বে। পৃথিবী ব্যাপী এনালগ সিস্টেম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমাদের এখানে এখনো এনালগ সিস্টেম প্রচলিত। এর পরের যে সম্প্রচার ব্যবস্থা ডিটিএইচ- এই সিস্টেমও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে উঠে যাচ্ছে। এর পরের ব্যবস্থা হচ্ছে আইপি। অর্থাৎ ইন্টারনেট প্রোটোকল সিস্টেম। আমাদের দেশে এখনো ডিটিএইচ-ই শুরু হয় নাই। ফলে আমাদের সামনের সময়টা অনেক কঠিন। আমাদেরকে সরাসরি আইপিতে চলে যাওয়া জরুরি।

আইপি তে রূপান্তরিত হলে আমাদের আর্থিক লাভ কী হবে?

শামীম শাহেদ: দেখুন এখন আমাদের দেশে দেড় কোটির বেশি বাড়িতে ক্যাবল এর কানেকশন আছে। একটা বাড়ি থেকে যদি চারশ টাকা করেও সম্প্রচার ফি নেওয়া হয় তাহলে প্রতি মাসে এখানে ছয়শ কোটি টাকার লেনদেন হয়। যার কোনো একটা পয়সা চ্যানেল মালিকরা পায় না। আইপি করে যদি চ্যানেলগুলোকে এনক্রিপটেড করে দেওয়া হয় তাহলে এই টাকাটা চ্যানেল মালিকরা পাবে। কিন্তু এই কাজটা করতে হবে ক্যাবল অপারেটারদেরকে সঙ্গে নিয়ে। এখন থেকে চারশ বা পাঁচশ কোটি টাকা যদি বিদেশী চ্যানেল ক্রয় করা কিংবা ক্যাবেল অপারেটরদের সার্ভিস চার্জ হিসেবে দেওয়া হয়। তার পরও থেকে যায় একশ কোটি টাকা। এই টাকাটা চ্যানেল মালিকরা পেলে এক সেকেন্ডও বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে না। তখন আমাদের টেলিভিশন মিডিয়া আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এটা সম্ভব হবে যদি অনুষ্ঠানের মান ঠিক রাখা যায়। কিন্তু কাজটা খুব জরুরি। যত দ্রুত করা হবে ততই মঙ্গল।

একটা গুজব আছেআপনি টেলিভিশন মিডিয়া ছেড়ে দিচ্ছেন। এটা কি ঠিক?

শামীম শাহেদ: আমার একটা সমস্যা আছে। পাঁচ-সাত বছর কাজ করার পরই আমার মনে হতে থাকে এটা আমি কী করছি। আমি আমার মূল্যবান সময়টা নষ্ট করছি। তখন আমাকে একটা নতুন ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। আগের কাজটা আর ভালো লাগে না। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে চার-পাঁচ বছর কাজ করার পর আমি পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করলাম। বার-তের বছর সংবাদপত্রে কাজ করার পর আমি টেলিভিশন মিডিয়ায় যুক্ত হলাম। মাঝখানে আমি এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের একটা প্রজেক্টেও কাজ করেছি। তারপর টেলিভিশনে যুক্ত হয়েছি সেটাও সাত বছরের বেশি সময় হয়ে গেল। এখন টেলিভিশনের কাজের প্রতিও আমার একটা বিরক্তি এসেছে। চার-পাঁচ বছর আমাকে এখন অন্য কোনো কাজ করতে হবে। তারপর যদি আগ্রহ ফিরে পাই তাহলে আবার টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত হব।

আপনি শান্ত-মরিয়ম এবং ডেফোডিল ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। আপনার লেখা বইও প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটা। সেগুলোর কী অবস্থা?

শামীম শাহেদ: শিক্ষকতা অনেক দিন থেকে বন্ধ আছে। বেশ কয়েক বছর বিরতির পর এই বছর আমার একটা বই প্রকাশিত হবে। নাম উড়োজাহাজের উড়োচিঠি। আগামী একুশে বই মেলা উপলক্ষে পার্ল পাবলিকেশন্স এটা বের করবে। তবে শিক্ষকতা করতে আমার বেশ ভালো লাগে।

জল-বালিকার কী খবর?

শামীম শাহেদ: ‘জন-বালিকা আমার স্বপ্নের চলচ্চিত্র। যত দিন যাচ্ছে ততই আমার ভিতরে জল-বালিকা শুট করার আগ্রহ বাড়ছে। এর গল্পেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। দেখা যাকসময় সব বলে দেবে।

নতুন কোনো অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা মাথায় আছে?

শামীম শাহেদ: ‘রাজ-দরবার নামে একটা চমৎকার অনুষ্ঠানের আইডিয়া অনেক দিন থেকে মাথায় ঘুরছে। উপস্থাপক পাচ্ছি না। পেলে সঙ্গে সঙ্গে করে ফেলব।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button