জাতীয়

বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন

ঢাকা, ০৪ নভেম্বর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বরিশালে সরকারী জিলা স্কুল মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। ৪ নভেম্বর শনিবার বেলা ১১টায় আবদুর রহমান বিশ্বাসের মরদেহ হেলিকপ্টার যোগে বরিশালে এসে পৌঁছায়। বেলা সাড়ে ১১টায় তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়।

আবদুর রহমান বিশ্বাসের জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন মরহুম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে লিবলী বিশ্বাস।

জানাজার নামে অংশ নেন বরিশালের জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের খতিব মাওলানা মির্জা নুরুল রহমান বেগ, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ।

গত ০৩ নভেম্বর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। এর পর তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালের সামনে দ্বিতীয় জানাজা, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে তৃতীয়, সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় চতুর্থ এবং গুলশান আজাদ মসজিদে সর্বশেষ জানাজা শেষে বিকেলে বনানী কবরস্থানে আবদুর রহমান বিশ্বাসকে দাফন করা হবে।

১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের জন্ম। স্কুল ও কলেজ জীবন বরিশালেই কাটে তার। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (সম্মান) এবং আইনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমানের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন।

বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমানের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন। ছবি: প্রিয়.কম

বরিশালের একটি স্থানীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে তিনি নিজ এলাকায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজ সেবামূলক এসব কাজের জন্য তৎকালীন সরকার ১৯৫৮ সালে তাকে সেচ্ছাসেবি সমাজ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে।

একই সময়ে তিনি বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। এর কিছুকাল পরে তিনি বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবে দ্বায়িত্বও পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি জাতিসংঘের ২২তম সাধারণ সভায় অংশ করেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার আসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য এবং ১৯৭৯-৮০ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায় পাট মন্ত্রী মনোনীত হন। পরে ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রী সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে এলে ১৯৯১ এর ৮ অক্টোবর তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়। এসময় এক সামরিক ক্যু ঠেকিয়ে দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হন।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকার গুলশানের বাসায় থাকতেন এবং ধর্মকর্ম করেই সময় কাটাতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আট সন্তানের জনক ছিলেনআবদুর রহমান বিশ্বাস।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button