জেলার সংবাদ

রেলের জমি-জলাশয় দখলের উৎসব নরসিংদীতে

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

নরসিংদী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলের জমি ও জলাশয় দখলের উৎসব চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অমান্য করে জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। শুধু তাই নয়, ভরাট করা হচ্ছে রেলওয়ের ভূমি সংলগ্ন সরকারি খালও।
বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা রেলওয়ে এস্টেট বিভাগের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এই অবাধ দখলদারি চালাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, নরসিংদী কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে অথচ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা কিছুই বলছে না। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি খাল ভরাট করা হচ্ছে অথচ তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। রেলওয়ের জায়গা দখলে নিয়ে জায়গার রকম পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিন্তু  স্থানীয় রেলপুলিশ, স্টেশন কর্তৃপক্ষ কিংবা রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
উপরন্তু এস্টেট বিভাগের জনৈক কর্মকর্তা নরসিংদী গিয়ে অবৈধ দখলদারদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে গেছে বলে এলাকায় ব্যাপক রটনা হয়েছে। আর তার ফিরে যাওয়ার পরই জলাশয় দখল ও বালু ভরাটের কাজ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের নরসিংদী অংশে মোট ১০টি রেলস্টেশন রয়েছে। ঘোড়াশাল থেকে শ্রীনিধি পর্যন্ত ১০টি রেলস্টেশনের আশেপাশে রয়েছে বহুসংখ্যক রেকর্ডভুক্ত জলাভূমি, নিম্নভূমি এবং ভিটে ভূমি। এসব ভূমির বেশিরভাগই রয়েছে অবৈধ দখলে। রেলওয়ের আশেপাশে চিহ্নিত ভূমি দস্যুরা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকে রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক সম্পর্ক স্থাপন করে এসব ভূমি দখলে নিয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের পশ্চিম পাশে হোম সিগনালের অভ্যন্তরীণ রেললাইন সংলগ্ন জলাভূমি দখলে নিয়ে নির্মাণ করছে অবৈধ মার্কেট। তারা আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে পাইপ ফিট করে ড্রেজার দিয়ে বালু এনে এই জলাশয় ভরাট করে রেলওয়ের ভূমি রকম পরিবর্তন করে ফেলেছে। এরপর এখন কর্মচারী লাগিয়ে রেললাইনের মাত্র ৫ ফুট দূরে নির্মাণ করছে বিশাল মার্কেট।
এ ব্যাপারে নরসিংদী রেল ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ জহির আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে স্টেশন মাস্টারের মাধ্যমে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর একজন এস্টেট কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছেন। উচ্ছেদের ব্যাপারে তারা আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করব। নরসিংদীর স্টেশন মাস্টার মহিদুর রহমান বলেছেন, অবৈধ দখলের ব্যাপারে আমরা রেলের এস্টেট বিভাগকে অবহিত করেছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান টুকু বলেছেন, এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কিছু নেই। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি।
জানা গেছে, রেলওয়ের এই ভূমির পাশে সরকারি খাল নতুন করে দখল করে মাটি ভরাট করে রেলওয়ে অবৈধ মার্কেটের সীমা আরো বাড়ানো হয়েছে। এতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারি অফিস, আদালত, সরকারি আবাসিক এলাকাসহ মানুষের হাজার হাজার বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্য দিনে-দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাস ভবন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে এই খাল দখল করে অবৈধ নির্মাণ কাজ চালালেও উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসন কেউ-ই ভূমিদস্যুদেরকে অবৈধ কাজ থেকে নিবৃত্ত করছে না। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর অফিস রেললাইন থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থিত। তাদেরকে জানানোর পরও পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জলাভূমি দখল ও বালু ভরাট করে জমির রকম পরিবর্তনে কোনো বাধা প্রদান করছে না।
যার ফলে নরসিংদী রেলস্টেশনের আশেপাশের জায়গা, রেলওয়ের বিস্তীর্ণ জলাশয় ও ভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে। ভূমি দস্যুরা যার যার অবস্থানে থেকে রেলওয়ের জলাভূমি দখল করে বালু ভরাট করে চলেছে। রেল মন্ত্রণালয়, রেল অধিদপ্তর তথা এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তারা কোনোই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
এর আগে নরসিংদী রেলস্টেশনের পূর্ব দিকে আউটার সিগন্যাল সংলগ্ন কয়েক বিঘারও অধিক নিম্নভূমি, ভূমি দস্যুদের স্থায়ী মালিকানায় চলে গেছে। তারা রেলওয়ের সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে এই ভূমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করে এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে আদালতে গড় হাজির রেখে এক তরফা রায় নিয়ে এই ভূমির স্থায়ী মালিক বনে গেছে। এর আশেপাশে কয়েক একর জলাভূমি দখলে নিয়ে বালু ভরাট করে স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণ করে নিরাপদে বসবাস করছে। রেলওয়ের মন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালকসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ রেল গাড়ি দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জোন সফর করলে এই অবৈধ দখলীয় জমির পাশ দিয়েই যাতায়াত করেন। চোখের সামনে এসব দেখেও কেউ অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই নির্লিপ্ততা রেলওয়ের জলাশয় ও জমি দখলের প্রবণতাকে দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button