আন্তর্জাতিক

অন্যরকম উপহার চাইলেন বর-কনে

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বিয়েতে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহার দেন অতিথিরা। বিশ্বের প্রায় বেশির ভাগ দেশেই এই রীতি প্রচলিত আছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণাও ডিজিটালাইজড হচ্ছে। সম্প্রতি বিয়েতে উপহার হিসেবে বিটকয়েন চাইলেন এক দম্পতি।

ভারতের বেঙ্গালুরুর প্রশান্ত শর্মা ও নিতি শ্রীর বিয়ের অনুষ্ঠান হয় গত ৯ ডিসেম্বর। সব সময় ব্যতিক্রম কিছু তাঁদের টানত। আর তাই বিয়েতে উপহার হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে প্রাধান্য দিলেন তাঁরা। শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানালেন, উপহার যখন দেবেই তখন বিটকয়েনই দাও।

টেকনোলজি নিয়েই কাজ করেন প্রশান্ত ও নিতি। তাঁদের বন্ধুরাও কাজ করছেন বিভিন্ন টেকনোলজি কোম্পানিতে। আর তাই তাদের পক্ষে এই উপহার দেওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।

প্রশান্ত শর্মা বলেন, ‘আমি আমাদের উপহারের সঙ্গে প্রযুক্তি এক করতে চেয়েছি। বিষয়টি আমাদের বাবা-মাকে ব্যাখ্যা করার পর তারাও খুব সহজভাবে নিয়েছেন।’ ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যেতে হবে বলেই মনে করেন তিনি।

এদিকে প্রশান্ত ও নিতির বিয়ের অনুষ্ঠানের মাত্র চার দিন আগে বিনিয়োগকারীদের ওপর বিটকয়েন ব্যবহারে সতর্কতা জারি করেছে ভারত। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিটকয়েন ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সতর্ক করল দেশটি। তবে তাঁদের বন্ধুদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সতর্কতা দমাতে পারেনি। তাদের বিয়েতে আগত ২০০ অতিথির মধ্যে ১৫ জন সাধারণ উপহার দিয়েছেন। অন্যদের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ রুপি মূল্যের বিটকয়েন উপহার পেয়েছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অতিথি বলেন, তাঁদের ভাবনাটা ভালো ছিল। বিভিন্ন দেশের সরকার এটিকে এখনো সেভাবে পছন্দ না করলেও এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলেই তিনি মনে করেন।

রাভি শঙ্কর নামের অতিথি বলেন, ‘বিয়ের মাত্র কদিন আগেই প্রশান্ত ও নিতি এমন উপহারের কথা ভেবেছেন, তা নয়। প্রায় মাস আগে থেকে তাদের এই পরিকল্পনা ছিল।’

অনলাইনে ডলার-পাউন্ড-ইউরোর পাশাপাশি কেনাকাটা করা যায় বিটকয়েনে। তবে অন্যান্য মুদ্রাব্যবস্থায় যেমন সে দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে, বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা নয়। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের কেউ কিংবা একদল সফটওয়্যার ডেভেলপার নতুন ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার প্রচলন করে। এ ধরনের মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সি নামে পরিচিতি পায়। নাকামোতোর উদ্ভাবিত সে ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম দেওয়া হয় বিটকয়েন।

বিটকয়েন লেনদেনে কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থা নেই। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনলাইনে দুজন ব্যবহারকারীর মধ্যে সরাসরি (পিয়ার-টু-পিয়ার) আদান-প্রদান হয়। লেনদেনের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি নামের পদ্ধতি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button