ফ্যাশন

ফ্যাশন ২০১৭ : কাটিং, ডিজাইন আর রঙে ছিল নতুনত্ব

ঢাকা, ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ কোন না কোনভাবে ফ্যাশন সচেতন, সে তারা যে পোশাকেই নিজেকে সাজান না কেনো। প্রত্যেকেই জানেন কোন রঙের পোশাকের সঙ্গে কেমন অনুসঙ্গ তাকে মানাবে। নারী-পুরুষ প্রত্যেকের পোশাকে প্রতি বছরেই যোগ হয় নতুনত্ব। ২০১৭ সাল তার থেকে ব্যতিক্রম নয়। এই বছর যেমন নারীদের পোশাকে ছিল গাউন, স্কার্ট বা পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাক। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি একটু অন্য ধাঁচের এমন পোশাক এখন তৈরি করছেন দেশের ডিজাইনাররা। কারণ এখনকার তরুণ-তরুণীরা গৎবাঁধা ফ্যাশনধারায় নিজেকে আটকে রাখতে চায় না। নতুন ধারার পোশাক তৈরি করতে প্রয়োজন নতুন নতুন ধারণা। পোশাকের কাটছাঁট কী হবে, তা ঠিক করতে রীতিমতো গবেষণা চলে আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস নিয়ে। সারা বছর তেমনি করে ফ্যাশন নিয়ে হয়েছে নানা গবেষণা। তবে পৃথিবীর চিরচারিত নিয়মে শেষ হতে যাচ্ছে আরেকটি বছর। কেমন ছিল বছরটি- সেই হিসেব নিকেশের পালা শুরু হচ্ছে চারিদিকে।

প্রতিবছরই ফ্যাশনে পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। এক বছর যেটি ফ্যাশনে ইন হয়, পরের বছর সেটিকে বদলে আনা নয় নতুনত্ব। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে খুব ঘটা করে পোশাকের ফ্যাশনে পরিবর্তন না এলেও এর কাটিং, ডিজাইন আর রঙে ছিল নতুনত্ব। সে সঙ্গে কাপড়েও ছিল বৈচিত্র্য। লং কামিজের ফ্যাশন এবারও ছিল, তবে ফ্রক স্টাইল ছিল ফ্যাশনে ইন। ঢিলেঢালা টপসের চাহিদাও ছিল বেশি। জাম্পস্যুট, স্লিভলেস পোশাক আর কোটির চাহিদা কম ছিল না কোন অংশে। উৎসব, মৌসুম আর আয়োজনে বছরজুড়ে ছিল অভিজাত ফ্যাশনের ছোঁয়া।

মেয়েদের ফিউশন

সালোয়ার-কামিজ, ওড়না তো আছেই; তার সঙ্গে জনপ্রিয়তায় টেক্কা দিয়েছে পশ্চিমা পোশাকও। এমন পোশাক তরুণীরা পরেননি, যেটাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্য না। স্টাইলের পাশাপাশি আরামকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ২০১৭ সালে। আর দেশি পোশাকের সঙ্গে ছিল বিদেশি পোশাকের মিশ্রণ। এই বছর বেশি চাহিদা দেখা গেছে পোশাকের নানা ধরনের কাটে। খুব বেশি আঁটসাঁট না, খানিকটা ঢিলেঢালা পোশাকই তারা বেছে নিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের টপ, কুর্তা, সিঙ্গেল কামিজের চাহিদা ছিল দেখার মত।  এছাড়াও জার্সি টপ, হাই-লো টিউনিক টপ (সামনের দিকে খাটো আর পেছনে লম্বা), কাঁধখোলা টপ, ফতুয়া, স্কার্ট, শার্ট, জনপ্রিয় কোনো মুখের ছবিসহ টি-শার্ট, স্লোগানসহ টি-শার্ট, স্লিম ফিট শার্ট, গাউন, কেইপ, লম্বা-খাটো কটি ইত্যাদি পোশাক বেশি পরেছেন তরুণীরা।

স্লিভলেস

স্বাচ্ছন্দ্য আর মানানসই, দুটো জায়গায়ই স্লিভলেস বরাবরই এগিয়ে। তাই তরুণী থেকে শুরু করে একটু বয়স্ক যারা, তাদের সবার পছন্দের তালিকায় এ বছর জায়গা করে নিয়েছিল স্লিভলেস পোশাক। কারণ ক্যাম্পাস, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা অথবা কোনো পার্টিতে স্লিভলেস যেকোনো পোশাকই মানিয়ে যায় বেশ।

কেপ

শাড়ি বা কামিজ-কুর্তার উপর হাতাবিহীন লম্বা ঢলঢলে যেই পোশাকটি মাটি ছুঁইছুঁই অবস্থায় থাকে, তা-ই হলো কেপ। বেশিভাগ কেপই জর্জেট বা নেটের কাপড়ের হয়ে থাকে। হয় একেবারেই সাধারণ, নাহয় গোল গলা হয়ে নিচের দিকে লেস বসানো থাকে কেপগুলোতে। গতবছর এই ট্রেন্ড বেশ চললেও এবছর এই পোশাকেও তরুণীদের দেখতে পাওয়া গিয়েছে। তবে তার পরিমাণ ছিল হাতেগোনা।

কোটি

কামিজের কাট ও নকশার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন দেখা গেছে এর ডিজাইনেও। লং কামিজের প্যাটার্নে সালোয়ার-কামিজে বৈচিত্র্য এনেছে ‘কোটি’। একটু আলাদা ডিজাইন আর কাটছাঁটের ভিন্নতায় এসব কটি কামিজ প্রচলিত ধারায় এনেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। হাল ফ্যাশনের এই যুগে প্রায় সব বয়সেই কোটিসহ কামিজ পরা যায়। সুতির পাশাপাশি মসলিন, কোটা, হাফসিল্ক, অ্যান্ডির পোশাকে এ ধরনের কোটি এনে দিয়েছে ট্রেন্ডি লুক। এ বছর ফ্যাশনেবল ‘কোটি’ কামিজের চল ছিল চোখে পড়ার মতো। কামিজ, কুর্তা, ফতুয়ার সাথে কোটি পরার চল কিন্তু বহু আগে থেকেই আছে। তবে কালের বিবর্তনে কাট-ছাট আর রঙে-ঢঙে পরিবর্তনও এসেছে অনেক। এ বছরের কোটিগুলোর আকার গতানুগতিক কোটিগুলোর চাইতে বড় ধরনের ছিল। আর কারুকাজ ছিল পুরোটা জুড়ে বা কোনো কোনোটি একদম সাধারণ ধাঁচের। আর এখনকার কোটিগুলো গাঢ় রঙের কাপড় দিয়েই করা হয় বেশি। শাড়ির সাথে কোটির চলটিও বেশ ভালোই সাড়া পেয়েছে এ বছরের ফ্যাশনে।

লং শ্রাগ

ছোট, হাতা কাটা টপ বা যেকোনো ধরনের ফতুয়ার উপর লম্বা শ্রাগ পরেছেন অনেকেই। এগুলোর মাঝে ডিজাইন থেকে শুরু করে ভিন্নতা ছিলো কাপড়েও। নেটের লম্বা শ্রাগগুলো প্রায় সবই এক রঙের ভেতর ছিল। গেঞ্জি বা জর্জেট কাপড়েরগুলোতে আবার হালকা কাজও দেখা গিয়েছে। তবে সবগুলোর কোনোটার পিছনে, সামনে বা পাশে বেল্ট অথবা ফিতা ছিল। কোনো কোনোটি আবার সামনে দিয়ে একেবারেই খোলা। আবার অনেকগুলোর সামনের দিকে পুরোটাই বা কয়েকটি বোতাম লাগানো ছিল।

লং গাউন

গাউনের চল গেল কয়েক বছর ধরেই বেশ চলছে। আগে শুধুই পার্টিতে গাউন পরা হতো। তবে এ বছর তরুণীরা সব ক্ষেত্রেই লং গাউন বেছে নিয়েছেন। কারণ, স্বাচ্ছন্দ্য আর স্টাইল দুটোই খুঁজে পাওয়া যায় লং গাউনে। পার্টি বা ক্যাজুয়াল—সব লুকেই এই পোশাক বেশ মানানসই।

জাম্পস্যুট

গরমের শুরুতে পোশাকে স্বস্তি পেতে এ বছর তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে ছিল রংচঙা জাম্পস্যুট, যা পাশ্চাত্যের পোশাক হিসেবেই পরিচিত। আমাদের দেশে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো এটি খুবই আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। একটা সময় ফ্যাশনে ট্রেন্ড ধরে রেখেছিল ফিটিং পোশাক।পালাজ্জো বা লেগিংসের মতো বেশ কিছু নতুন ট্রেন্ডও যোগ হয়েছে এর সঙ্গে। তবে আবারো ঢিলেঢালা পোশাকের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই এ বছর ফ্যাশন অঙ্গনে জাম্পস্যুটের চাহিদা কোনো অংশে কম ছিল না।

বাহারী হাতা

চলতি বছরের প্রায় শেষের দিকেই কামিজ, কুর্তা, ফতুয়া ও টপসের হাতায় বিভিন্ন রকম ডিজাইন লক্ষ্য করা গিয়েছে। লেয়ারড স্লিভ যা কাঁধ থেকে বা কনুই থেকে শুরু করে থাক থাক হয়ে নিচের দিকে আসে, বেলুনের মতো ফোলা হাতা, বেল স্লিভের চল কাপড়-চোপড়ের ঢঙ বদলে দিয়ে বেশ একটা ট্রেন্ডি লুক এনে দিয়েছে। এছাড়াও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টপসগুলোতে কাঁধের থেকে কিছুটা নিচ পর্যন্ত খোলা হাতা বা কোল্ড শোল্ডার হাতাও দেখা গিয়েছে অনেক।

সালোয়ার কামিজ

লং হোক কিংবা শর্ট, সালোয়ার-কামিজের আবেদন এতটুকু কমেনি এ বছর। যেকোনো উৎসব-পার্বণে নারীদের পছন্দ সালোয়ার-কামিজ। ঝামেলাবিহীন স্বস্তির পোশাক হিসেবে সালোয়ার-কামিজকেই বেছে নেন অনেকে। তবে বরাবরের মতো এবারও এর কাটিংয়ে ছিল ভিন্নতা এবং প্যাটার্নে নতুনত্ব। কামিজ আর কুর্তির ঢঙে বেশ কয়েকটি ডিজাইন জায়গা করে নিয়েছিল হাল ফ্যাশনে। কামিজ বা কুর্তার পেছন দিকটা বড় আর সামনের দিকটা ছোট করে নকশা করা হয়েছিল এবং এই স্টাইলের কামিজ-কুর্তাকে নাম দেয়া হয়েছে লো-হাই ড্রেস। এক রঙের বা অ্যাম্ব্রয়ডারি করা কাপড়ে বেশি মানানসই এই ডিজাইনটি। শার্ট স্টাইলের কামিজ, মাঝখানে কাটা (ফ্রন্ট স্লিট), পাশে কাটা (সাইড স্লিট) কামিজ, আনারকলি ও ছয় ছাঁটের চল ছিলো অনেক। তবে কম-বেশি সব ডিজাইনের কামিজ-কুর্তাগুলো ছিল সাইজে লম্বা ধরনের। অনেক কুর্তা আর কামিজের আবার দু’পাশে পকেট দেয়ার বিষয়টিও লক্ষ্য করা গিয়েছে। এছাড়া এবছর নামীদামি বিদেশি ব্র্যান্ডের বাইরে দেশি পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁকটা একটু বেশিই ছিল। এর কারণ ভালো মান আর ডিজাইনে বাহারি ঢং।

মেয়েদের লেগিংস, সালোয়ার, পালাজ্জো, প্যান্ট

প্যান্ট আর সালোয়ারের কাটে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্য ছিল এই বছর। সালোয়ার আর প্যান্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিউলট, স্ট্রেট, বেলবটম, ফেয়ারি এমন নতুন নতুন সব ডিজাইন। মেয়েদের ক্ষেত্রে সাধারণ কাটের সালোয়ারের চল কম ছিল অনেকটাই। সাধারণ কাটের সালোয়ারের বাইরে চুড়িদার, সারারা বেশ আলোড়ন তুলেছিল। এরপর এলো পাতিয়ালা। তারপর ধুতি। নিচে চওড়া মুহুরি দেওয়া সালোয়ারের চলও ছিল কিছুদিন। পালাজ্জোর নকশায়ও ছিল পরিবর্তন। প্রথম প্রথম নিচের দিকটা অনেক চওড়া ছিল। এখন নিচের চওড়া অনেক কমে এসেছে।

পালাজ্জো, ঢোলা পায়জামা, লেগিংস, ধুতি পায়জামার চল কিন্তু একেবারেই কখনো উঠে যায় না। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি এ বছরের ফ্যাশনেও। পালাজ্জোতে বেড়েছে ঘেরের পরিমাণ, নিচের দিকে পিকো বা হেম লাইনে এসেছে নানা ধরনের ভিন্নতা। নতুন করে চল এসেছে এক ছাঁটের পায়জামা আর পাশে অল্প কাঁটা হয়ে তার উপরে কয়েকটি বোতাম দেয়া। ফ্রন্ট স্লিট ও সাইড স্লিট কামিজ-কুর্তার সাথে সাধারণ বা কাজ করা লেগিংস বা সাধারণ ও কাজ করা পালাজ্জোও পরা হয়েছে। ফতুয়া, টপ বা শার্টের সাথে ফাটা জিন্সের কদর ছিল বেশ। আবার একেবারে ক্যাজুয়াল লুক যাদের পছন্দ, তারা কেউ কেউ বেছে নিয়েছেন ব্যাগি প্যান্টের চলটাকে। সিগারেট প্যান্টের চলও ছিলো বেশ লক্ষণীয়।

ওয়েস্টার্ন

কাপড় যেমনই হোক না কেন, এর কাটিং আর প্যাটার্নে ওয়েস্টার্ন আমেজ ছিল এ বছর। লং প্যাটার্নের পাশাপাশি ছিল শার্ট-প্যান্টের আদলে তৈরি পোশাক। আবার কিছু ছিল গাউন স্টাইলের। বছরজুড়ে এমন ছিমছাম পশ্চিমা পোশাকের চল বেশি ছিল।

মেয়েদের স্কার্ট

স্কার্ট তো জনপ্রিয় ছিল অনেক আগে থেকেই। কিছুদিন পরপরই স্কার্টে দেখা যায় নতুন রূপ। এই বছর নকশা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থামেনি। স্কার্টের সঙ্গে টি-শার্ট, ফতুয়া তো ছিলই—বাড়তি আকর্ষণ যোগ করছে বিভিন্ন কাটের কামিজ। স্ট্রেট স্কার্ট, খাটো স্কার্ট, বেল শেপ স্কার্ট, এ লাইন স্কার্ট, প্রিন্ট স্কার্ট, সার্কেল স্কার্ট, হবল স্কার্ট জনপ্রিয় ছিল। এর বাইরেও ছিল নানা নকশার চাপা স্কার্ট। টি-শার্টের সঙ্গেও স্কার্ট পরা হয়েছে। হাঁটুর নিচ পর্যন্ত স্কার্টগুলোর সঙ্গে টিউনিকের মতো টপ পরেছে কিশোরীরা।

ঢিলেঢালা টপস

লম্বায় ছোট আর পাশে চওড়া হওয়ার কারণে এই টপস দেখতে বেশ স্টাইলিশ লাগে। এ কারণে গোল গলা বা হাইনেকে এ বছর দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে ঢিলেঢালা টপস। আর হাতাও বেশ চওড়া করে বানানো হয়েছে। তরুণীরা এসব টপস লুফে নিয়েছেন।

মেয়েদের শার্ট

তরুণীদের পোশাকের ক্ষেত্রে হাতাবিহীন পোশাক বেশ চলেছে। তাই কিছু পোশাকের হাতায় নতুনত্ব আনতে করা হয়েছে পাইপিংয়ের ব্যবহার। মেয়েদের শার্টে নজর কেড়েছে ফুলেল প্রিন্টের নকশা। পলকা ডট, বিমূর্ত প্রিন্টগুলো শার্টে নিয়ে এসেছে আভিজাত্য। মেয়েদের শার্টে এবার নতুনত্ব ছিল লম্বা কাট।

বাহারি ব্লাউজ

এই বছর আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ নয়, বরং এখন ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে শাড়ি। বছরের পুরো সময় ব্লাউজের নকশায় বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এক ব্লাউজ কয়েকটি শাড়ির সঙ্গে পরার প্রচলনের শুরু হয়েছে এবার। সেই গতানুগতিক গোল গলা ও চোলি কাট নয়, ব্লাউজের কাটে ছিল নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নকশায়ও ছিল ভিন্নতা। ফিউশন ধরনের ব্লাউজই বেশি নজর কেড়েছে। এমনকি ব্লাউজের ওপর কটি পরার চলও দেখা গেছে। এ ছাড়া চলেছে চেক, ব্লক, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট ও পলকা ডট। ব্লাউজের ফ্যাশনে একেবারে নতুন সংযোজন ছিল কটি ব্লাউজ। হাইনেক, বা পেছনে লো-কাট দুটোই ছিল ট্রেন্ডি। একটু ফোলানো ঘটিহাতা ব্লাউজ ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানিয়ে গেছে।

শাড়ি

ফ্যাশনে অনেক পোশাকের ট্রেন্ড আসলেও, শাড়ির আবেদন কখনওই কমে যায় না। এ বছর শাড়ির ক্ষেত্রে সুতির পাশাপাশি সিল্কের চাহিদাও অনেক বেশি চোখে পড়ছে। সে সঙ্গে কাতানের চল তো ছিলই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই সুতির শাড়ির কয়েকটি রূপ। এর মধ্যে তাঁতের শাড়ি ও কোটা শাড়ি পছন্দের শীর্ষে ছিল। এর ডিজাইনেও ছিল ভিন্নতা। কোনোটাতে স্ক্রিনপ্রিন্ট করা, কোনোটায় ব্লকের কাজ, আবার কোনো শাড়িতে ছিল নকশিকাঁথার কাজ। বরাবরের মতো এবারও সিল্কের শাড়ির চাহিদা ছিল। কারণ এ ধরনের শাড়ি সব বয়সী নারীকেই ভালো মানায়। সিল্কের মধ্যেও ছিল বাহারি ধরন—টাঙ্গাইল সিল্ক, হাফ সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক, জয়পুরি সিল্ক, মসলিন সিল্ক, কাতান সিল্ক ও অ্যান্ডি সিল্ক। হাতের কাজের পাশাপাশি এতে স্ক্রিনপ্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির কাজকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এবারের শাড়িগুলোতে বিভিন্ন জনপ্রিয় চরিত্র, সাম্প্রতিক ঘটনা, বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্য আর ঐতিহ্যবাহী জিনিসের দেখা মিলেছে। যদিও এর আগেও নানা উৎসবে এই ধাঁচের ছাপা শাড়ি লক্ষ্য করা যায়। তবে এ বছরে উৎসব ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে ছাপা শাড়ির প্রচলন। এই ধরনের শাড়িগুলো বেশিরভাগ সুতি, খাদি বা কোটা কাপড়ের শাড়িই ছিল।

ছেলেদের পাঞ্জাবি

সুতি কাপড়ের গাঢ় রঙের সেমি-লং পাঞ্জাবির চল ছিল ছেলেদের পছন্দে। ছিল টাইডাই নকশা করা স্ট্রাইপ সেমি-লং পাঞ্জাবি। তাঁতে বোনা সুতি কাপড়ের গাঢ় রঙের বড় চেকের পাঞ্জাবিও ছিল ফ্যাশনে। স্ট্রাইপ ও তিরা নকশার সুতি পাঞ্জাবি বেশি দেখা গেছে গরমের সময়।

ছেলেদের শার্ট, টিশার্ট

গরমে আরাম দিতে পোশাকের কাপড়ে বেশি দেখা গেছে সুতি ও লিনেন। তবে জিনসে তৈরি কিছু শার্টেও জনপ্রিয়তা ছিল লক্ষণীয়। হাফ ও ফুল হাতা দুই ধরনের ডিপ ডাই করা শার্টের কদর ছিল বাজারে। স্লিম ফিট কাটে তৈরি সেসব শার্টে হালকা রং বেছে নিয়েছে ক্রেতারা। প্রিন্টের শার্ট বা উজ্জ্বল রঙের পোলো ছিল ফ্যাশনে। তরুণদের কাছে বেশি ভালোবাসার পোশাক হিসেবে ছিল টি-শার্ট। নরম কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের ছবি বা স্লোগান দিয়ে করা টি-শার্ট ঘরে-বাইরে সবখানে পরেছেন তারা।

ডেনিম

সারা বছর তো আছেই, শীত আসার আগে আগে ডেনিমের পোশাকের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। টপ ও বটম—দুই ধরনের জিনসের পোশাকই পরছেন তরুণেরা। মেয়েদের জিনসের ফুল প্যান্ট, খাটো প্যান্ট, ছেলেদের নানা আকৃতির ফুল প্যান্ট ছাড়াও থ্রি কোয়ার্টার ও খাটো প্যান্ট ছিল বাজারে। ফুলহাতা ও হাফহাতার শার্ট বা শার্টের ওপরে পরার জন্য নানা ধরনের জিনসের কটি পরতে দেখা গেছে তরুণদের। কয়েক বছর আগেও পায়ে চেপে থাকায় জিনসের প্যান্ট পরতে অনেকে ভয় পেতেন। এই সমস্যা থেকেই স্টিচ জিনসের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এই বছর।

বছর শেষে

বছরের শেষ সময়টা আমাদের দেশে চলে বিয়ের মৌসুম। আর তাই এই সময় থেকে তরুণীদের পোশাকে যুক্ত হয় নতুন ফ্যাশনধারা। কয়েক বছর ধরে পোশাকে হালকা রঙের প্রাধান্য দেখা গেলেও এই বছর ছিল উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্য। কারণ আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে রাজত্ব করছে রয়্যাল ব্লু, সবুজ আর লালের মতো উজ্জ্বল রং। এই রংগুলোর ব্যবহার পোশাকে তুলে ধরা হয়েছে আভিজাত্য। নকশায় জমকালো চুমকি, পাথর আর মুক্তার কাজ থাকলেও সেখানটায় দেখা গেছে নতুনত্ব। টিল্লা ওয়ার্ক, থ্রিডি ওয়ার্কের কাজগুলো প্রাধান্য পেয়েছে পোশাকে।

গত কয়েক বছর তরুণীদের উৎসবের পোশাকে গাউন বাজিমাত করলেও বছরের শেষ দিকে তেমনটা দেখা যায় নি। এর পরিবর্তে পোশাকে আছে দেশীয় ঘরানার ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সমন্বয়। কারণ বছরের শেষে দেশে বিরাজ করে বিজয় দিবসের উৎসব। এ সময় শীতকাল থাকায় ফ্যাশনে যোগ হয় ফিউশন। ছেলেদের জিন্স পাঞ্জাবির সঙ্গে মানিয়ে যায় শাল অথবা স্লিভলেস কোটি। অন্যদিকে মেয়েরাও শাল, জিন্স, জ্যাকেট অথবা কোটি যেকোন পোশাকে সাজিয়ে থাকেন এই সময়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button