অর্থ ও বাণিজ্য

শতাধিক শুল্ক স্টেশন বিলুপ্ত হবে

ঢাকা ,০৩ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশের শতাধিক শুল্ক স্টেশন বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে এসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে কোনো আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। ইতিমধ্যে এনবিআর কোন কোন শুল্ক স্টেশন বিলুপ্ত করবে, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ জন্য বাণিজ্য, নৌ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক একাধিক সভাও করেছে এনবিআর।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, যেসব শুল্ক স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে, তার একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। গত তিন বছরে কোনো আমদানি-রপ্তানি হয়নি এমন শুল্ক স্টেশন বিলুপ্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করে মতামতের জন্য তা সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ২৫ জানুয়ারি নৌ, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। সেখানে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে এখন আর বাণিজ্য হয় না, সেসব স্টেশন বিলুপ্ত করা হবে। এনবিআরের প্রাথমিক তালিকায় ১০০ থেকে ১২০টি শুল্ক স্টেশন আছে।

বর্তমানে সারা দেশে ১৮১টি শুল্ক স্টেশন আছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২টি কার্যকর আছে। কার্যকর থাকা এসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে বছরে একটি হলেও পণ্যের চালান আসে। এই তালিকায় থাকা শুল্ক স্টেশনগুলো হলো বেনাপোল, বুড়িমারী, ভোমরা, টেকনাফ, আখাউড়া, তামাবিল, হিলি, বাংলাবান্ধা, সোনামসজিদ, দর্শনা, বিবিরবাজার, নাকুগাঁও, টেকনাফ, শেওলা, চাতলাপুর, বিরল, চিলাহাটি, বিলোনিয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের প্রথম সচিব এহতেশামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে বহু বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি হয় না, শুধু কাগজে-কলমেই আছে, সেগুলো চালু রাখার মানেই হলো সম্পদের অপচয়। আমরা এখন যেসব কার্যকর আছে সেসব শুল্ক স্টেশন আরও ভালো করে চালাতে চাই। নতুন অবকাঠামো তৈরি করব। এ ছাড়া সম্ভাবনাময় শুল্ক স্টেশনগুলোও রাখা হবে। সব মিলিয়ে ১০০ থেকে ১২০টি শুল্ক স্টেশন পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হবে।’

অবশ্য অকার্যকর শুল্ক স্টেশন বন্ধ করার উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। ২০১২ সালেও এনবিআর এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তার জন্য গঠিত কমিটি একটি প্রতিবেদনও তৈরি করেছিল। কিন্তু পরে তা আর বেশি দূর এগোয়নি।

সীমান্ত পার হয়ে আমদানি করা পণ্যের চালান নিয়ে প্রথমেই শুল্ক স্টেশন আসতে হয়। সেখানে বিল অব এন্ট্রি, শুল্ক পরিশোধসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হয়। কিন্তু নামে মাত্র শুল্ক স্টেশনগুলোতে এই ধরনের অবকাঠামো ও জনবল নেই। একসময় চাহিদা থাকলেও এখন আর ওই সব শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হয় না। আবার শুল্ক স্টেশনে যাওয়ার মতো সড়কও নেই অনেক জায়গায়।

এর আগে ২০০৭ সালের ১ জুলাই ৫০টি শুল্ক স্টেশনকে অকার্যকর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। স্থাপনের পর থেকে এসব শুল্ক স্টেশন অব্যবহৃত থাকা, জনবলের অভাব এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণেই অকার্যকর ঘোষণা করা হয়। তবে পূর্বানুমতি নিয়ে এসব শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করার সুযোগ রাখা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে কোনো আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক এই সুযোগ নেননি। অকার্যকর শুল্ক স্টেশনগুলোই বিলুপ্তির তালিকায় থাকার সম্ভাবনা বেশি। ওই তালিকায় যেসব শুল্ক স্টেশন ছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডোরা বাজার, পাকশী, আশুগঞ্জ, বরিশাল, চরমুগুরিয়া, গোয়ালন্দ, শংকর, শিবগঞ্জ, নীদপুর, প্রেমতলী, ধামরহাট, ঈশ্বরদী, বগুড়া, সান্তাহার, নেকমর্দ, নীলফামারী, মোগলহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, উখিয়া ঘাট, চৌমুহনী, শুভপুর, বিলোনিয়া, কুমার ঘাট, লাতু, ফেঞ্চুগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, সরিষাবাড়ী, ভৈরব, ময়মনসিংহ, মীরকাদিম, মুন্সিগঞ্জ, লৌহজং, আরিচা ঘাট, রংপুর, আনমুরা রেলস্টেশন ও শ্রীপুর।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button