জাতীয়

বাড়ি নির্মাণে জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

ঢাকা , ১১ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):  

মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের জামানতবিহীন গৃহঋণ দিতে নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।

মুক্তিযোদ্ধা গৃহনির্মাণ ঋণ প্রকল্পের আওতায় একজন মুক্তিযোদ্ধা তার বাড়ি তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

ঋণ পরিশোধের সময়সীমা হবে ১২ বছর। এর মধ্যে গ্রেস পিরিয়ড (রেয়াতকাল) থাকবে ৯ মাস।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রাধিকার পাবেন। তাদের বাড়ি তৈরির জন্য জামানতবিহীন ঋণ দিতে ২০১৬ সালে উদ্যোগ নেয় সরকার। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা তৈরি ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (ব্যাংকিং অ্যান্ড পলিসি) আবু ফারাহ মো. নাসেরকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সোনালী, জনতা, কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে ‘মুক্তিযোদ্ধা গৃহনির্মাণ ঋণ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে সরকার অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের সম্মতি নিয়ে এ প্রকল্পে যুক্ত করতে পারে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১৬ হাজার ১২৪ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

জামানতবিহীন এ ঋণে সুদের হার হবে পাঁচ শতাংশ। তবে ঋণগ্রহীতাদের এ সুদ দিতে হবে না। তাদের হয়ে সরকার সুদ পরিশোধ করবে। সুদ দেওয়া হবে বছরে একবার।

ঋণের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিন ধাপে তা বিতরণ করা হবে। ঋণ মঞ্জুরের পর প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। তার তিন মাস পর ৩০ শতাংশ ও আরও তিন মাস পর বাকি ৩০ শতাংশ ঋণের অর্থ হস্তান্তর করা হবে।

জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। আর প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যারা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার যোগ্য তারা নন-জুডিশিয়ারি স্ট্যাম্পে সম্মতি দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

ঋণের সুবিধা নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের ভাতা জমা (লিয়েন) রাখতে হবে। তবে কোনো নির্মিতব্য বাড়ি ব্যাংকে বন্ধক রাখতে হবে না।

যেসব মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান না, তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী বন্ধকি রাখতে পারবেন। বাড়ি নির্মাণের জন্য আবেদনকারীদের নিজের বা স্বামী-স্ত্রীর নামে কমপক্ষে দুই শতাংশ জমি থাকতে হবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button