আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ দিবসে আবারও সংঘর্ষের আশংকা!

ঢাকা , ১৫ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):  

গাজা সীমান্তে যখন ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সোমবার নিহত ৫৮ জন ফিলিস্তিনির জানাজা ও তাদের দাফনের কাজ চলছে তখন সেখানে আজও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের দাফন এমন একটি দিনে হচ্ছে যেদিন ইসরায়েলিরা তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০তম দিবস পালন করছে। বিবিসি বাংলা।

ফিলিস্তিনিদের কাছে এই দিনটি নাকবা দিবস যার অর্থ ‘বিপর্যয়ের দিন।’ আজ থেকে ৭০ বছর আগে ১৯৪৮ সালের এই দিনটিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কারণে বহু ফিলিস্তিনি সেখান থেকে পালিয়ে গেলে তারা উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে।

বলা হচ্ছে, ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর এই দিনটিই ফিলিস্তিনে সবচেয়ে বেশি রক্তপাতের দিন-গত চার বছরে মাত্র একদিনে এতো সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ধারণা করা হয় ১৯৪৮ সালের ওই যুদ্ধের সময় সাত লাখের মতো ফিলিস্তিনিকে সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল কিংবা তারা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।

সেসময় ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত শত শত শহর ও গ্রাম ধ্বংস করে ফেলা হয়।

গাজায় ফিলিস্তিনিরা তাদের ফেলে আসা সেই পিতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবিতে গত ছ’সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করে আসছে। সাধারণত প্রতি বছরের ১৫ই মে ফিলিস্তিনিরা এই নাকবা দিবস পালন করে থাকে।

ধারণা করা হচ্ছে, গতকালের মতো এমন একটি সহিংস দিনের পর আজ নাকবা দিবসে আবারও সহিংসতা হতে পারে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, সংঘাত মোকাবেলা করতে তারা প্রস্তুত। ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলোও বলছে, তারা মঙ্গলবারেও বড় ধরনের প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করবে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে নিয়ে গেছে এবং সেদিনই এতো ব্যাপক সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গত কয়েক দশক ধরে জেরুসালেমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান ছিলো তাতে পরিবর্তন ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক সমাজ ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।

ফিলিস্তিনিরা মনে করে পূর্ব জেরুসালেম হচ্ছে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তারা ইসরায়েলকে সমর্থন করছে। কারণ ইসরায়েলও জেরুসালেমকে তাদের অবিভাজ্য রাজধানী বলেই মনে করে।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুসালেমে তারা গড়ে তুলেছে দু’লাখ ইহুদির জন্যে বহু বসতি। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ।

একসময় জেরুজালেমে বহু দেশের দূতাবাস ছিলো। কিন্তু ১৯৮০ সালে ইসরায়েল জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করার পর বহু দেশ সেখান থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে নেয়।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, ৫৮ জন নিহত হওয়া ছাড়াও, আরো ২,৭০০ জন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা একে উল্লেখ করছে গণহত্যা হিসেবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল তার আত্মরক্ষায় গাজার ইসলামপন্থী শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তিনি বলেন, হামাস চেষ্টা করছে ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিতে।

source: BBC Bangla

ইসরায়েলি বাহিনীর ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল বলেছেন, “প্রাচীরের দিকে লোকজন এলে প্রাণঘাতী কিছু হয় না। এর ফলে সেখানে গুলি চালানোর কোন প্রয়োজন হতে পারে না।” অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি প্রাচীরের ওপাশ থেকে যার দুটো পা-ই নেই, সেরকম একজন বিক্ষোভকারী কতোটা হুমকি হতে পারেন?” তার প্রশ্ন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button