খেলাধুলা

১৪ গোলের আনন্দ ভুলে গেছে মেয়েরা

ঢাকা , ১৩ আগস্ট , (ডেইলি টাইমস ২৪)

ভোরে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে থিম্পুতে। বৃষ্টি থামার অপেক্ষাতেই যেন ছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। সকালের নাশতা সেরেই মেয়েদের নিয়ে বেরিয়ে পড়েন টিম হোটেলের পাশের রাস্তায়। আজ নেপালের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের। এই ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমিফাইনালে উঠতে চায় মারিয়ারা। থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে খেলা। সকালে তাই পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটিয়ে মেয়েদের হালকা ওয়ার্ম আপটা সেরে নিতে চাইলেন কোচ।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল বাংলাদেশের। তবে এসব নিয়ে মোটেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না মেয়েরা। অধিনায়ক মারিয়া মান্দা সবার হয়ে যেন সেটাই বলে দিয়েছে, ‘পাকিস্তানকে বেশি গোল দিয়েছি এর মানে এই নয় যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি। কারণ সামনে আমাদের নেপালের ম্যাচ ও সেমিফাইনাল। এই দুটো ম্যাচই জিততে হবে। এ জন্য আমরা কেউ বেশি আনন্দ করছি না। আমাদের লক্ষ্য একটাই, সব ম্যাচ ভালোভাবে জেতা। ফাইনালে ওঠা।’

কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে গত কয়েক বছর মেয়েদের ফুটবলে একের পর এক সাফল্য পেয়ে আসছে বাংলাদেশ। ভুটানে ৯ আগস্ট সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৪ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ, ছোটনের অধীনেই। কিন্তু ছোটনের কাছে এসব শুধুই অতীত। আপাতত সামনে একটাই ছবি—আজকের ম্যাচে জয়। পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া।

ঢাকায় টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে নেপালকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার নেপালের মেয়েদের দলটা ছিল একেবারে ভাঙাচোরা। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কাছে হারের পর ভারত তাদের হারিয়েছিল ১০-০ গোলে। ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কাঠমান্ডু ফেরে নেপাল। কিন্তু এবারের দলটা একেবারে অন্যরকম। গত আসরের মাত্র ৫ জন ফুটবলার রয়েছে এবারের দলে। বাকি সবাই নতুন। নেপাল ফুটবল ফেডারেশন নিয়োগ দিয়েছে জাপানি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর চাকি তাকেদাকে। মেয়েদের ফুটবলের উন্নতির জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সাবেক স্ট্রাইকার হরি খাড়কাকে। আর সঙ্গে তো রয়েছেই গত আসরের কোচ গঙ্গা গুরুং। সবাই এই দলটা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। থিম্পু আসার আগে টানা দেড় মাস অনুশীলন করেছে। নেপাল আর্মড পুলিশ ফোর্স, কাঠমান্ডু ফুটবল দল ও স্থানীয় কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে ৪টি। এরই মধ্যে পরশু পাকিস্তানকে হারিয়ে নেপাল নিশ্চিত করে ফেলেছে সেমিফাইনাল। সব মিলিয়ে এবার আর সেই ‘দুর্বল নেপাল’ নেই। বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন সেটা ভালোই জানেন, ‘আসলে আমরা কোনো প্রতিপক্ষকেই দুর্বল ভাবছি না। প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে জিততে চাই। নেপাল এবার যথেষ্ট শক্তিশালী। ওদের সঙ্গে মেয়েরা শতভাগ উজাড় করে দিয়েই খেলবে।’

নেপাল যতই শক্তিশালী হোক না কেন সেসব নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না কোচ। মেয়েদের কাছে চাচ্ছেন স্বাভাবিক খেলা। যে স্বাভাবিক খেলাটা দিয়ে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার আনাই মগিনি, আঁখি খাতুন ওভারল্যাপ করে নিয়মিতই প্রতিপক্ষের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ঠিকই গোলও পাচ্ছে দুজন। মাঝমাঠ দখলে রেখে মণিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দাও খেলছে দুর্দান্ত। গত ম্যাচে মাত্র ৪৫ মিনিট করে খেলার সুযোগ পেয়েছে স্ট্রাইকার তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। এত কম সময়েও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১৪ গোলের ৬টি এসেছে এই দুজনের পা থেকে ! আজও নিশ্চয় দুজনই চাইবে গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিতে। নেপালের সঙ্গে গত আসরে হ্যাটট্রিক করেছিল তহুরা। এবারও তেমনটাই লক্ষ্য কলসিন্দুরের কিশোরীর। নেপালের কোচ গঙ্গা গুরুং বেশ সমীহই করছেন বাংলাদেশকে, ‘বাংলাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী দল। ওরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ওদের নিশ্চয় একটা গেম প্ল্যান আছে। যদিও ওদের মেয়েদের গতির সঙ্গে পেরে ওঠাটা কঠিনই হবে আমাদের। তারপরও মেয়েরা শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করবে এই ম্যাচে।’
সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটা ম্যাচের অপেক্ষাতেই রয়েছে বাংলাদেশের মেয়ে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close