মুক্তমত

নির্বাচনী প্রচারে ফেসবুক

ঢাকা , ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস২৪):

ফেসবুক পোস্টকে কি ভূগোলে বাঁধা যায়? এ এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখান দাঁড়ালে নিমিষে দুনিয়ার সবখানে পৌঁছে যাওয়া যায়। মাইক লাগিয়ে বক্তৃতা করে যত শ্রোতার কাছে যাওয়া যায়, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দর্শক–শ্রোতা মেলে ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। প্রচারের মাধ্যম হিসেবে এর ক্ষমতা ভালোই বুঝতে পেরেছেন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা। বহু প্রার্থী ফেসবুকে বক্তব্য রাখছেন। রাজনীতি নিয়ে গরমাগরম বিতর্কে মাতছেন নেটিজেনরা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) হিসাবে দেশে এখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। তাদের অর্ধেকেরও বেশি লোক ভোটার। এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলো বক্তব্য তুলে ধরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। অনলাইনে যোগাযোগের মতো বিভিন্ন মাধ্যম থাকলেও দেশে প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ফেসবুক। ঢাকায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সোয়া দুই কোটি। ফলে প্রার্থীদের অনেকেই বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছাতে ফেসবুক পেজে পোস্ট দিচ্ছেন বা ‘বুস্ট’ও করছেন। এতে জনসভা, পথসভা করার চেয়ে কম খরচ হচ্ছে, কিন্তু বার্তা পৌঁছাচ্ছে বেশি মানুষের কাছে। এ দিক থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো বেশ ইতিবাচক। কিন্তু এই মাধ্যম নিয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয়ও রয়েছে।

নানা ধরনের গুজব ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে অনেকে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। সেগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া খুবই কঠিন। নির্বাচন কমিশন বলছে, এই মাধ্যমের প্রতি তারা নজর রাখছে, কিন্তু সেটি কতটুকু কার্যকর হবে, তা তর্কসাপেক্ষ। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে যদি প্রচার চলতে থাকে, তার রাশ টানা হবে কী করে, এটা একটা গুরুতর প্রশ্ন। আরও সমস্যা আছে। কমিশনের নির্দেশে প্রার্থীদের প্রচারের খরচ বেঁধে দেওয়া আছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে বক্তব্য পোস্ট করায় এমনিতে কোনো খরচ নেই। সে ক্ষেত্রে যে দল যত লোক জোগাড় করতে পারবে, তারা তত বেশি পোস্ট করবে। এমনকি পয়সা দিয়ে লোক ভাড়াও করা হতে পারে পোস্ট করার জন্য। এই খরচের বিষয় কমিশন ধরবে কী করে?

সামাজিক মাধ্যমকে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের জায়গা বলে ধরা হয়। দলীয় বা সাংগঠনিক পরিচয়-প্রতীক ছাড়া যদি কেউ নিজস্ব মতামত পোস্ট করেন, তা নিয়ে কমিশনের কী বলার থাকতে পারে, সেটাও তর্কসাপেক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ইসির একটি দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। যত তাড়াতাড়ি সেটা পাওয়া যায়, ততই উত্তম। কারণ, নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close