চলতি মাসেই রিজার্ভ চুরির মামলা

0
59

ঢাকা , ১৬ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় চলতি মাসেই মামলা করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ ফেব্রুয়ারির আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করবে। এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান।

সোমবার যুক্তরাষ্ট থেকে ফিরে মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি)  তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে মামলার সব বিষয় আমরা গুছিয়ে এনেছি। নির্ধারিত সময়ের আগেই মামলা করা হবে। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ফিলিপাইনের আদালত মায়া দেগুইতোকে ৩২-৫৬ বছরের কারাদণ্ড  এবং  উত্তর কোরিয়ার নাগরিক পার্ক জিন হিয়কের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে রেখে মামলাটি সাজানো হচ্ছে। এই মামলার মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

ব্যাংকিং সচিবের নেতৃত্বে একটি আনুষ্ঠানিক মিশন বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছে। হ্যাকিংয়ে জড়িত ফিলিপাইনের ব্যাংক আরসিবিসি’র বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা কী হতে পারে তা নির্ধারণই এই মিশনের উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলায় ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) দায়ি করে মামলা সাজানো হচ্ছে। এর আগে গত নভেম্বরে ফেডের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক (ফেড) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। ফেডের পক্ষ থেকে এ ধরনের আশ্বাস পাওয়ার ব্যাপারটি ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চুরি যাওয়া অর্থ ফিরে পেতে আরও আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মামলা হলে ঠাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রমাণ করতে চাচ্ছে রিজার্ভ চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তা দায়ি নন, তবে ফিলিপাইন মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে। দেশটি এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করছে।

এ প্রসঙ্গে ফিলিপাইন থেকে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলার মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা থাকলেও ফরাস উদ্দিনের ওই প্রতিবেদন এক্ষেত্রে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তার মতে, ফরাস উদ্দিনের  প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যে কারণে সরকার তিন বছরেও ফরাস উদ্দিনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ফরাস উদ্দিনের প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ি করা হয়েছে। আলোচনার মধ্য দিয়েই সব টাকা দিতে চেয়েছিল ফিলিপাইন। কিন্তু ফরাস উদ্দিনের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে আসায় ফিলিপাইন বেঁকে বসে। অবশ্য ২০১৬ সালে এই সাইবার হামলার পরপরই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। যদিও পরবর্তিতে প্রমাণিত হয়েছে যে বিদেশি হ্যাকাররাই এ কাজটি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দায়ি করে মাল মুহিত যে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছিলেন তার ফলে অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। ম্যানিলায় তৎকালিন বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লেখা এক চিঠিতে এমন দায়িত্বহীন মন্তব্য বন্ধ করতে অনুরোধ করেছিলেন।’

সিস্টেম হ্যাক করে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। হ্যাকাররা ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপাইনের মুদ্রা পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় দোষী প্রমাণ হওয়ায় গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে সাজা দেন ফিলিপাইনের আদালত। এছাড়াও তাকে সর্বমোট ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে দুই কোটি ডলার ফেরত এসেছে। কিন্তু ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এখনও ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ফেরত আসেনি। এই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করা হবে। এজন্য দেশটিতে দুটি ল’ ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের ফি নিয়ে একটি চুক্তিও করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, চুরি যাওয়া ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধার করে দিতে পারলে ল’ ফার্ম দুটিকে সেই অর্থের ১০ ভাগ দেওয়া হবে।