বন্ধ হচ্ছে মোবাইল ফোনের সাত দিনের নিচের সব প্যাকেজ

0
68

ঢাকা , ১৭ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস২৪):

অবশেষে বন্ধ হচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্যাকেজ, তিন দিনের প্যাকেজ, ৫ দিনের প্যাকেজসহ সবগুলো ছোট প্যাকেজ। এ সব ছোট প্যাকেজে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন গ্রাহকরা। আগামী ২৭ জানুয়ারির পর থেকে ৭ দিনের নিচে টকটাইম বা ইন্টারনেটের আর কোনো প্যাকেজ থাকবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- বিটিআরসি সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। এটা মানার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে বিটিআরসি।

গতকাল বুধবার টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা জানিয়েছেন বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক।

টেলিযোগাযোগ খাতে ২০১৮ সাল অর্জন ও সফলতার বছর ছিল উল্লেখ করে জহুরুল হক বলেন, চলতি বছরে সেবার মান উন্নত করার ওপরই জোর দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ক্ষমা কিংবা অজুহাত গ্রাহ্য করবে না বিটিআরসি। টিআরএনবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ছাড়াও দুজন কমিশনার, মহাপরিচালক, পরিচালক ও কমিশন সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোবাইল ফোনের ছোট প্যাকেজগুলো কিনে প্রতারিত হয়ে আসছিলেন গ্রাহকরা। ওই প্যাকেজগুলো কম টাকায় দিলেও ইন্টারনেটসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলো গ্রাহকরা শেষ করতে পারতেন না। ফলে তার বেঁচে যাওয়া ইন্টারনেট নষ্ট হয়ে যেত। আবার তাকে কিনতে হতো। অন্তত ৭ দিনের প্যাকেজ থাকলেও গ্রাহক হিসেব করে খরচ করতে পারেন।

জহুরুল হক বলেন, ‘যে অপারেটরের কোয়ালিটি খারাপ তাকে আমরা নোটিশ দিচ্ছি, শোকজ করছি। প্রয়োজন হলে আইনানুগ আচরণ করবো। এ বছর কোয়ালিটি ডেভেলপ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি আছি। মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলেও কল ড্রপ হচ্ছে। একদিন মন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমি মন্ত্রী আপনি চেয়ারম্যান। আপনার সঙ্গে কথা বললাম তাও ড্রপ হয়ে গেল, অন্যদের কথা কি বলব?’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, মোবাইল অপারেটরদের কোয়ালিটি র্যাংকিংয়ের জন্য একটি কোম্পানি নিয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলাফল দিয়ে র্যাংকিং করা হবে। এর ফলাফল ওয়েবসাইটে থাকবে, যার ওপর ভিত্তি করে গ্রাহক অপারেটর পছন্দ করবে। ২০১৯ সালের মধ্যেই তা করে ফেলতে পারবো। তিনি বলেন, কোয়ালিটির জন্য পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম থাকতে হবে। অপারেটররা বুঝতে পেরেছে স্পেকট্রাম কম থাকলে কোয়ালিটি ডেভেলপ করা যাবে না। এ জন্য তারা চেষ্টা করছে আলোচনার জন্য, আমরা দেখছি কী করা যায়?

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ বা এসএমপি শিরোনামে প্রবিধানমালা করা হচ্ছে। জানা গেছে, সেখানে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা, বার্ষিক রাজস্ব বা বরাদ্দ পাওয়া তরঙ্গের পরিমাণ বাজারের মোট হিস্যার ৪০ শতাংশের বেশি হলে তাকে ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ ঘোষণা করা যাবে। ওই কোম্পানি দানবীয় আকার নিয়ে যাতে বাজার গ্রাস বা প্রতিযোগিতার পথ রুদ্ধ করতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ও রাজস্বের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যা রয়েছে কেবল গ্রামীণফোনের। তাদের গ্রাহক ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ। জহুরুল হক বলেছেন, এসএমপি হয়ে গেলে সবাই ব্যবসা করতে পারবে। কারও গ্রাহক ৪০ শতাংশের বেশি হবে না। আগামী কমিশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

জানা গেছে, বার্ষিক রাজস্ব আয়ের দিক দিয়ে গ্রামীণফোন আরও এগিয়ে আছে। ২০১৭ সালে বাজারের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ শতাংশ পেয়েছে তারা। বাজারে একক কর্তৃত্বের পাশাপাশি সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, বাজারের সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ’, অধিগ্রহণ বা একীভূতকরণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে এসএমপি প্রবিধানমালায়। এই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে বিটিআরসির হাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here