শিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে বন্ধ প্রতিবন্ধী এরশাদের পড়াশোনা

ঢাকা , ০৯ এপ্রিল , (ডেইলি টাইমস২৪):

এক হাত না থাকা সত্ত্বেও অনেক কষ্টে পড়াশুনা চালিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভর্তি হয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এরশাদ হোসেন। দিনমজুর পিতা ধার-দেনা করে অনেক কষ্টে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করালেও অর্থের অভাবে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারছে না মেধাবী এরশাদ।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন এরশাদ। এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে সি ইউনিটে প্রথম শিফটে পরীক্ষা দিয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় ২য় স্থান অীধকার করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চার মাসপার হয়ে গেলেও অর্থের অভাবে বই, খাতা ও আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুখতার এলাহী হলের দ্বিতীয় তলায় কোনরকমে মাথা গোঁজার ঠাই করে নিয়েছেন।

জানা গেছে, এরশাদ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের চর নিজ গড্ডিমারী গ্রামের দিনমজুর ইয়াদ আলী ও মা ফিরোজা খাতুনের ছেলে। এক বোন পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৭৮ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এরশাদ। তার পরিবারে অভাব অনটন ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মাঝেও এমন সাফল্যে সকলেই অভিভূত। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলায় তিস্তা নদীর পাড়ে খেলতে গিয়ে তার বাম হাত ভেঙ্গে যায়। অনেক চিকিৎসা করেও হাতটি ভাল হয়নি। এক সময় হাতটিতে পচন ধরে। পরে তার পরিবার সাহায্য নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে হাতটি কেটে নেন। দরিদ্র বাবা-মা চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বাম হাতটি হারাতে হয় এরশাদকে।

এরশাদ হোসেন বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতার চেয়েও সংসারের অভাব-অনাটনই পড়ালেখায় সবচেয়ে বেশি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ আমার পড়াশুনার খরচ বহন করলে হয়তো আমার স্বপ্নটা পূরণ হত। ভবিষ্যতে আমি বিসিএস ক্যাডার হতে চাই’।

এরশাদের বিষয়ে স্থানীয় গড্ডিমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘শারীরিক আর সাংসারিক প্রতিবন্ধকার সাথে যুদ্ধ করেই সে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। সমাজের বিত্তবানরা তার পাশে দাঁড়ালে ভবিষ্যতে তার স্বপ্নটা পূরণ হবে’।

বাবা ইয়াদ আলী বলেন, ‘সাত সদস্যের অভাব-অনাটনের সংসারে চাহিদা মেটাতে গিয়ে ছেলের সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গে যেতে বসেছে। তাই সবার কাছে ছেলের পড়াশুনা জন্য অর্থ সাহায্যের অনুরোধ করছি’।

দিনমজুরী করে সংসারের খরচ চালান এরশাদের বৃদ্ধ বাবা ইয়াদ আলী। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮ জন। বাড়ি ভিটে ৫ শতক জমি ছাড়া কিছুই নেই। ছেলের পড়াশুনায় আগ্রহ থাকায় অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে পড়াশুনা করিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি করান। কিন্তু ছেলের পড়াশুনা খরচ চালাতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন ইয়াদ আলী।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button