সাক্ষাৎকার

এ দেশের যেখানেই গেছি, চমৎকার উষ্ণতা পেয়েছি

ঢাকা , ৩১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস২৪):

আর্ল মিলার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন গত বছরের নভেম্বর মাসে। বাংলাদেশে কোনো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এই প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নানা দিক, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতি, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেন।

প্রথম আলো: আপনি ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন। তারপর এরই মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে গেছেন ঢাকার বাইরে। বাংলাদেশ নিয়ে শুরুর অভিজ্ঞতাটা কেমন?

আর্ল মিলার: প্রথমেই মনে আসে বাংলাদেশের আতিথেয়তার কথা। বাংলাদেশের যেখানেই গেছি, চমৎকার সৌজন্য ও উষ্ণতা পেয়েছি। এটা একেবারেই ভিন্ন রকমের। প্রথম আট মাসেই বাংলাদেশের আটটি বিভাগ সফর করেছি। এ দেশের যেখানেই গেছি, অন্তত একজনকে পেয়েছি, যাঁর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোরালো যোগাযোগ আছে। এটাই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি। সিনেটর টেড কেনেডি ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সত্যিকার পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে নাগরিকের সঙ্গে নাগরিকের, বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর আর জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। দুই মহান দেশের অংশীদারত্ব শক্তিশালী এবং তা অপরিহার্য। এই অংশীদারত্ব আরও মজবুত করতে আমি বাংলাদেশের সরকার, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও সংবাদমাধ্যমে কর্মরত বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।

প্রথম আলো: দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আপনাদের অগ্রাধিকারগুলো কী?

আর্ল মিলার: আমার অগ্রাধিকারগুলোকে সংক্ষেপে আমি বিগ ফাইভ হিসেবে বলে থাকি। আমি দূতাবাসে সহকর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশের অংশীজনদের সঙ্গে ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছি। টেকসই ও অভিন্ন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে আমরা একসঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসা নিয়ে কাজ করছি। আমরা গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার বিকাশ ঘটিয়ে থাকি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমরা একে অন্যের অংশীদার। আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছি।

প্রথম আলো: শেখ হাসিনা তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি অভিনন্দনবার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ ও অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ততার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা কী?

আর্ল মিলার: বিশ্বের উন্নয়ন সাফল্যের সেরা গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আরও ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে অংশীদার হতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে ৭০০ কোটি ডলার দিয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারগুলোর অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮২০ কোটি ডলার, যা দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অর্ধেক প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, রেলের ইঞ্জিন সরবরাহ ও নদী খনন করছে এবং হাজার হাজার শ্রমিককে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

প্রথম আলো: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে?

আর্ল মিলার: সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ট্রেন্ড উইন্ডস ইন্দো–প্যাসিফিক ফোরাম অ্যান্ড মিশন শীর্ষক বাণিজ্য মেলায় ডজনখানেক মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যৌথ বিনিয়োগের ব্যাপারে তাদের সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের দারুণ সাফল্য আছে। শেভরন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী এবং বাজারের অর্ধেক গ্যাস উৎপাদন করে মার্কিন এ প্রতিষ্ঠানটি। বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কিছুদিন আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘জেনারেল ইলেকট্রিক’ (জিই) ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ‘সামিট পাওয়ার’ চুক্তি সই করেছে। আরেক মার্কিন কোম্পানি ‘এক্সেলারেট এনার্জি’ গত বছর বঙ্গোপসাগরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনাল চালুর পর এ বছর দ্বিতীয় ইউনিট চালু করেছে। আমি আমার কাজের অধিকাংশ সময় ব্যয় করছি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

প্রথম আলো: রানা প্লাজা ধসের পর তৈরি পোশাকশিল্পে পরিবর্তন আনতে বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা (জিএসপি) ফিরে পায়নি। শিগগিরই কি এটা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে?

আর্ল মিলার: রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে দেয়। তারপর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। অন্যান্য বিষয়, বিশেষত শ্রম অধিকার নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পূর্বশর্তগুলো পূরণ করবে, আমরা এটা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি, যাতে বাংলাদেশের জিএসপি ফিরে পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করতে পারে।

প্রথম আলো: নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ দুটো ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের সহযোগিতা নিয়ে কিছু বলবেন?

আর্ল মিলার: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অভিন্ন স্বার্থ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের অনিবার্য অংশীদারে পরিণত করেছে। আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কখনো এতটা শক্তিশালী ছিল না। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আন্তরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। সন্ত্রাসবাদ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মসূচিগুলোর পাশাপাশি সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সব যৌথ কর্মসূচিতে আমরা মানবাধিকার সুরক্ষা ও সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়ে থাকি।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের মানবাধিকার, ব্যক্তির স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ কী?

আর্ল মিলার: আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের বিকাশ একে অন্যকে শক্তিশালী করে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সুশাসনকাঠামো শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সাফল্য আরও বেগবান হতে পারে। সংবাদমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, বিরোধীদলীয় সদস্য, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীদের মতপ্রকাশ ও পরিবর্তনের পক্ষে মতামতের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ভিন্নমতাবলম্বীদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং তাদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। নিয়মিত ও প্রাণবন্ত বিতর্কের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলো বিকশিত হয়েছে।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে গত বছর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ গৃহীত হয়েছে। এই আইনের ৯টি ধারা নিয়ে এ দেশের সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের উদ্বেগ রয়েছে। আপনি আইনটিকে কীভাবে দেখছেন?

আর্ল মিলার: যুক্তরাষ্ট্র ইন্টারনেট নিরাপত্তার গুরুত্বের কথা বলছে, তবে অনেক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রও মনে করে, বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র অনলাইনে ভিন্নমতসহ সব ধরনের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গণতান্ত্রিক সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বাংলাদেশের ডিজিটাল ও ইন্টারনেট নিরাপত্তা যথাযথভাবে সুরক্ষার স্বার্থে আইনটিতে কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও সরকারের মধ্যে সংলাপ হবে বলে আমি আশা করি।

প্রথম আলো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো অভিনন্দনবার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন বিষয়ে নানা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

আর্ল মিলার: বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আহ্বানের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করেছেন। তিনি এটাও আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা, ব্যক্তির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুরক্ষায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।

প্রথম আলো: ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশকে ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে (ইন্দো–প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি, সংক্ষেপে আইপিএস) যোগ দিতে বলেছে। অনেকের মতে, এটা চীনের উদ্যোগের পাল্টা পদক্ষেপ। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? আপনি আইপিএস বিষয়ে বাংলাদেশের কী প্রতিক্রিয়া লক্ষ করছেন?

আর্ল মিলার: আমরা কিন্তু কাউকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলছি না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীনও একটি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় রাষ্ট্র। স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, শ্রম অধিকার, পরিবেশগত উদ্বেগ দূর করা এবং টেকসই অর্থায়নের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভালো উদাহরণ ও সেরা মানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আঞ্চলিক উন্নয়নে তার ইতিবাচক অবদানকে আমরা স্বাগত জানাই। অবাধ ও উন্মুক্ত আইপিএসের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। দুটি দেশ এই উদ্যোগ থেকে উপকৃত হতে পারে। কারণ, এতে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল পরিচালনা সংস্থা এবং অবাধ ও স্বচ্ছ বিনিয়োগ পরিবেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে লাভবান হতে পারে, যা স্বচ্ছতা ও দুই পক্ষের সহজাত সুবিধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। বেসরকারি খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশ্বে সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে সৃজনশীল। ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বেসরকারি খাতকে তাদের সেরাটা করতে দেওয়া: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সৃজনশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি।

প্রথম আলো: রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার টেকসই সমাধান কীভাবে হতে পারে?

আর্ল মিলার: ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য হৃদয় আর সীমান্ত খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমকর্মীদের অবারিতভাবে চলাফেরার সুযোগ দিয়ে এবং রাখাইনে সংঘাতের মূলে সমাধান খুঁজে নিয়ে সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারকে বারবার বলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যাপক নৃশংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কথাও আমরা বলছি। আমি এটা গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সাড়াদানের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের স্থায়ী জনগোষ্ঠীর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪২ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে।

প্রথম আলো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আর্ল মিলার: ধন্যবাদ।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close