খেলাধুলা

দেশকে সোনার পদক এনে দিয়েও পূরণ হয়নি চাওয়া

ঢাকা , ০১ ডিসেম্বর, (ডেইলি টাইমস২৪):

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দক্ষিণ এশিয়ান গেমস, যেটি এসএ গেমস নামে পরিচিত। প্রায় দশদিন নেপালের কাঠমুন্ডু ও পোখারায় চলবে দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাথেলেটিক্সের এই আসর। আনুষ্ঠানিকভাবে ১ ডিসেম্বর শুরু হলেও কিছু ডিসিপ্লিনে আগেই খেলা শুরু হয়ে গেছে। এই আসরে বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০১০ সালে সাফল্য পেয়েছিল বড় পরিসরে, এরপর সোনাপদক এলেও সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে এই দেশের অ্যাথল্যাটরা।

এবার বাংলাদেশের অ্যাথল্যাটদের প্রস্তুতি কেমন? ভারোত্তোলনে বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড় মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বলছেন, ‘প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট না ব্যাপারটা এমন না, আমাদের যে কোচ তিনি বাংলাদেশের সেরা কোচ।’ সীমান্ত ২০১৬ এসএ গেমসে সোনাজয়ী বাংলাদেশি ভারোত্তোলক। এসএ গেমসে বাংলাদেশের জন্যে প্রথম সোনা এনে দিয়েছেন মাবিয়া কিন্তু সীমান্তদের অভিযোগ, সাফল্য এনে দেওয়ার পরেও তার চাওয়া পাওয়া পূরণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘একটা স্টোর রুমে অনুশীলন করে পদকের আশা করা কঠিন, আমি বিগত চার বছর একটা জিনিস চেয়েছি সেটা আন্তর্জাতিক জিমনেসিয়াম ও সরঞ্জাম, এখানে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা কঠিন, এখানে এয়ার কন্ডিশনও নেই। পদক পাওয়ার ব্যাপারটা অনুশীলনের সুযোগ সুবিধার ওপর নির্ভর করে। পরিকল্পনা শুরু হয়েছে অনেক আগে।’

ঢাকার নয়া পল্টনে একটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনে অনুশীলন করেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত-সহ বাকি ভারোত্তোলকরা।সেখানে গিয়ে দেখা যায় মোট ২২ জন ভারোত্তোলক প্রস্তুতি নেন আসন্ন দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের জন্য, অপ্রতুল জায়গার কারণে একজন যখন অনুশীলন করেন তখন অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বা একটু দূরে সরে যেতে হয়। নারী ও পুরুষ বিভাগে মোট ১৪ জন ভারোত্তোলক দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে অংশ নেবেন।

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন ভারতের ভারোত্তোলকদের, যারা চার-পাঁচ বছর ধরে টানা অনুশীলন করছেন। এ কারণেই সীমান্ত মনে করেন বাংলাদেশের ভারোত্তোলকদের জন্য পদক পাওয়া কঠিন হবে। বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ এশিয়ান গেমস অনেক বড় ইভেন্ট বলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শাহেদ রেজা। তার মতে, অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সুযোগ বেশি থাকে। ব্যাক্তিগত ইভেন্টগুলোর দিকে বাড়তি নজর দেয়ার কথা বলেছেন তিনি। আর্চারিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবার অনেক বেশি।

২০১০ থেকে ২০১৯: পরিস্থিতি কতটা বদলাল
২০১০ সালে যে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস আয়োজিত হয়েছিল ঢাকায়, সেবার বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখায়। ১৮টি সোনা পদক, ২৪টি রূপা পদক ও ৫৫টি তাম্র পদক পায় বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর ২০১৬ সালে পদক সংখ্যা অনেক কমে আসে। কাবাডিতে এক সময় নিয়মিত পদক জিততো বাংলাদেশ। বিগত দিনগুলোতে অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে বাংলাদেশের পদক নেই বললেই চলে। সাতাঁর, ভারোত্তোলন, আর্চারি ও শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশ পদক পাচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কোচ ও ক্রীড়া বিশ্লেষক ডালিয়া আক্তার, তিনি বলেন, ‘২০১০ সালে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নেয়া হয়, ২০১৬ সালের যে প্রতিযোগিতা সেটার আগে সময় নেয় পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রস্তুতি। ২০১৯ এ এসে সেটা আরো কমে গেছে। কিন্তু এটা প্রস্তুতি নির্ভর হওয়া উচিত না, সাফ গেমসের ক্যাম্প আলাদা একটা ব্যাপার, এর আগে ও পরে যেটা হওয়া উচিত সেটা হলো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, পেশাদার খেলা কিন্তু এসবেরই অভাব।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close