প্রধান সংবাদভ্রমণ

শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনা চান পর্যটন ও পার্কের উদ্যোক্তারা

ঢাকা , ০৫ এপ্রিল, (ডেইলি টাইমস২৪): প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ব্যবসার মৌসুম হলেও সরকারের নির্দেশনা মেনে পর্যটন ও বিনোদন পার্কগুলো বন্ধ
সংকটের মুখে পড়েছে এই খাতটি। এ অবস্থায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পাশাপাশি এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে বেশকিছু প্রণোদনা চেয়েছেন এর উদ্যোক্তারা।

পর্যটন ও বিনোদন পার্ক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব এমিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড এন্ট্রাকশন (বাপা) জানিয়েছে, বর্তমান সময় এবং আগামী দুটি ঈদ সবচেয়ে ব্যবসা সফল আয়ের মৌসুম। এই মৌসুমে উপার্জিত অর্থ দিয়েই সারাবছরের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ইতোমধ্যে সব পর্যটন ও বিনোদন পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রচুর লোকসান গুনতে হচ্ছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের।

সংগঠনটি আরও জানায়— জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এই তিন মাস পর্যটন খাতের জন্য উপযোগী সময়। এই মৌসুমে ভ্রমণ-পিপাসুদের পদচারণায় মুখর থাকতো দেশের সব পর্যটন স্পট। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার পর পাল্টে গেছে এ চিত্র। শূন্য হয়ে পড়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম, ফয়’স লেক, নন্দন পার্ক, ড্রিম হলি ডে-সহ দেশের সব পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র। এতে করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ অবস্থায় কর্মীদের বেতন, মজুরি ও চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তারা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ খাতটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের প্রতি বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে বাপা। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি তহবিল থেকে আগামী ছয় মাস পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও খাতে অন্যান্য খরাচ বাবদ ৪৫ কোটি টাকা সাহায্য প্রদান। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সেবা নিশ্চিত করতে আগামী দুই বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্যাট, সম্পূরক শুল্কসহ অন্যান্য কর মওকুফ করা। আগামী দুই বছর নতুন স্থাপনা নির্মাণ ও বর্তমান স্থাপনা সঙ্গে সংযোজনের জন্য আমদানিকৃত বিভিন্ন রাইডসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে মূসক ও শুল্ক কর মুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া এবং চলতি মূলধন যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে এক শতাংশ হারে ঋণ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া।

সরেজমিনে বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও বিনোদন পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, সবকটি পার্ক ও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কবে নাগাদ দেশের এই পরিস্থিতি কেটে যাবে তাও জানা নেই কারও। এ অবস্থায় পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন রাইড নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ অন্যান্য ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তারা।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button