আলোচিত সংবাদজেলার সংবাদপ্রধান সংবাদ

সেই বর-কনেকে আটক করেছে পুলিশ: কারাগারে শামু

ঢাকা , ১৫ মে, (ডেইলি টাইমস২৪): কুমিল্লায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করা ৬০ বছরের শামুকে নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে তাকে কুমিল্লার আদালতে সোপর্দ করার পর সেই শামুর ঠাঁই হয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে। এছাড়াও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শামুর স্ত্রী ‘ভিকটিম’ ওই স্কুলছাত্রীকে পাঠানো হয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অপরদিকে অন্য কাজীর বালাম বই ও সিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে জেলার লাকসামের সারোয়ার হোসেন নামের এক কাজীকে। শুক্রবার দুপুরে জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমাই থানার ওসি মো. আইয়ুব। ওসি জানান, রিকশাচালক শামসুল হক শামু ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে বিয়ে করার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর মা তাছলিমা আক্তার। মামলায় তিনি শামুর বিরুদ্ধে তার মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করার অভিযোগ করেন। তাই কথিত নবদম্পতিতে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই শামুর বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে গ্রেফতার করা হয়। আজ (শুক্রবার) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা এবং তার বয়স নির্ধারণে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে প্রতারণার মাধ্যমে অন্য নগরীর এক কাজীর বালাম বই ও সিল ব্যবহার করে বিয়ে সম্পন্ন করার অভিযোগে সারোয়ার নামের এক কাজীকেও আটক করেছে পুলিশ।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব বলেন, ‘ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের পর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। পরে পেরুল গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।’ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুর রহমানও তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মছুল হক শামছু লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পেরুল গ্রামের দীঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা। আর ওই ছাত্রীর বাড়ি একই উপজেলার পশ্চিম পেরুল গ্রামে। সে পেরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বর শামছুল হকের ছোট মেয়েও তার সঙ্গে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ মে শামছুল হক শামছু ওই ছাত্রীকে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ও ১ লাখ টাকা উসুল দিয়ে বিয়ে করেন। ছাত্রীর বাবা ঢাকায় চাকরির সুবাদে তাদের পরিবার দেখাশোনা করার অসিলায় আগে থেকেই আসা-যাওয়া করতেন রিকশাচালক শামছু। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই স্কুলে যাওয়া আসার সময় সে শামছুল হকের রিকশায় যাতায়াত করত। এ সময়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্থানীয়রা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় ১১ মে বর-কনেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসেন ইউপি চেয়ারম্যান। বর শামছুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, ‘৫ লাখ টাকা দেনমোহর ও ১ লাখ টাকা উসুলে তাকে আমি বিয়ে করি।’ এ সময় শামছুল হক বিয়ের কাবিননামা ও কনের জন্মসনদ দেখিয়েছে।

শামসুল হকের দুই মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর কনে চার ভাইবোনের মাঝে দ্বিতীয়। তার বড় বোনের এখনো বিয়ে হয়নি। ছোট দুই ভাই রয়েছে।

বিয়ে প্রসঙ্গে মেয়ের চাচা মোবারক হোসেন মফু বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। অবুঝ মেয়েটাকে ফুসলিয়ে সে এ কাজটা করেছে।’

এ বিষয়ে মেয়ের বাবা বলেন, ‘শামসু আমার বাড়ির কাজ করত। আমি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার পরিবারে বিভিন্ন কাজ সে করে দিতো। তাকে আমি খুব বিশ্বাস করতাম। সে আমার মেয়েকে প্ররোচনা দিয়ে বিয়ে করে। সে একজন রিকশাচালক। তার ঘরে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। এই বয়স্ক একটা লোকের সঙ্গে আমার মেয়ে কীভাবে সংসার করবে?’

ঢাকা , ১৫ মে, (ডেইলি টাইমস২৪)/আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close