আলোচিত সংবাদপ্রধান সংবাদ

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

ঢাকা , ১৭ মে, (ডেইলি টাইমস২৪): ১৯৮১ সালের এই দিনটিও ছিল রোববার। সেদিন ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে কালবৈশাখীর হাওয়া, প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি। কিন্তু এসব কিছুই গতিরোধ করতে পারেনি গণতন্ত্রকামী লাখ লাখ মানুষের মিছিল। গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর থেকে জনতা ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে তারা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে বিকাল ৪টায় কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে এক নজর দেখার জন্য সেসময় বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত রাস্তাগুলো রূপ নিয়েছিল জনসমুদ্রে।

৩৯ বছর আগের এই দিনে সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন তিনি। তাঁর আগমন উপলক্ষে অনেকদিনের পর স্বাধীনতার অমর স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত ছিল ঢাকার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল. হাসিনা তোমায় কথা দিলাম- পিতৃ হত্যার বদলা নেবো।
৬ বছরের নির্বাসন শেষে তার প্রত্যাবর্তনের ওই দিনটিই ঠিক করে দেয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফের ঘুরে দাঁড়াবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

এ উপলক্ষে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও, এবছর শেখ হাসিনার নির্দেশে সব ধরনের জনসমাগমপূর্ণ কর্মসূচি পরিহার করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিনটি উদযাপনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নরঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এসময় বিদেশে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এরপর স্বামী-সন্তানসহ ৬ বছর বিভিন্ন দেশে কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরতে সক্ষম হন শেখ হাসিনা। দুই শিশু সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ছোট বোন শেখ রেহানার কাছে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সময় দেশে ফেরেন তিনি।

দেশের মাটিতে পা দিয়ে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে আমার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।

তাঁর বিদেশে থাকাকালেই ১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর নেতারা তার হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগের পতাকা। এরপর থেকে ৪ বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তিনি তাঁর ২ সন্তানকেও সুশিক্ষিত করে তুলেছেন। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তথ্য প্রযুক্তিবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

ঢাকা , ১৭ মে, (ডেইলি টাইমস২৪)/আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close