জেলার সংবাদ

ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি অনুদানের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

নিঃস্ব চার গ্রামের মানুষ

ঢাকা , ৩১ মে, (ডেইলি টাইমস২৪): ফারুক ইফতেখার সুমন, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি অনুদানের নাম করে প্রায় ৭০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক ইউপি সদস্য। বিষয়টি নিয়ে রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন সহকারী কমিশনার ভূমি সাঈদা পারভীনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযোগে জানা যায়, সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে উপজেলার রাজিরপুর ইউনিয়ের রামগোবিন্দপুর, রাধাবল্লভপুর, বিলখেরুয়া ও হরিপুর গ্রামের প্রায় ৫শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে ৭০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আট নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন। মা-শিশু ও গর্ভবতী ভাতা থেকে শুরু করে সরকারের ঘোষিত মহামারি করোনা ২৫শ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং, প্রতিবন্ধী, বিধবা, ঘর নির্মান আবাসন প্রকল্প, গভীর নলকূপ স্থাপন, খাদ্যবান্ধব কর্মসুচী, ভিজিএফ কার্ড, বয়স্কভাতা, খাদ্যের বিনিময় ৪০দিনের কর্মসুচী, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে গ্রামের গরীব অসহায় লোকদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৫শতাধীক লোকের কাছ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে ইউপি সদস্য । অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে রইছ উদ্দিন জানান, প্রতিপক্ষ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি বলে জানান।
ভুক্তভোগী রামগোবিন্দপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর স্ত্রী শেফালি বেগম জানান, তিনি এই গ্রামের মেয়ে। তাঁর বিয়ে হয়েছে ভাটি চরনওপাড়া গ্রামে। কয়েকমাস আগে অসুস্থ ভাইকে দেখার জন্য বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন তাঁর অসুস্থ ভাইয়ের জন্য একটি সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করার কথা বলে একাধিক কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে পারেননি।
ভুক্তভোগী হরিপুর গ্রামের আবদুল জলিলের স্ত্রী আছিয়া (৫৫) জানান, রইছ উদ্দিন ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর স্বামীর জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য ৩১০০ টাকা, পরে প্রতিবন্ধী নাতনি খাদিজার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করার জন্য দেন ৩৫০০ টাকা নেন। প্রতিবার টাকা নেওয়ার সময় রইছ উদ্দিন মুঠোফোন দিয়ে একজনের সাথে কথা বলিয়ে দিতেন। কথা বলার সময় পরিচয় জানতে চাইলে ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি বড় কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতেন রইছ উদ্দিন। কিন্তু সরকারি সুবিধার কোনো কার্ড দিতে পারেননি মেম্বার। সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে তৃতীয়বার তাঁর কাছ থেকে ২০০০ হাজার টাকা, জমির দলিল ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘর পাননি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা সহায়তা পাবার ব্যবস্থা করার কথা বলে ৩০০ টাকা নেন মেম্বার। আছিয়া বলেন, সমূদয় টাকা অন্যের কাছ থেকে সূদে দাদণ এনে মেম্বারের হাতে তুলে দিয়েছেন। এখন তাঁর মেয়েরা পোশাক কারখানায় চাকুরি করে সূদ পরিশোধ করছে।
আরেক ভুক্তভোগী বিলখেরুয়া গ্রামের বেগম (৫০) জানান, তিনি সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। কিন্তু রইছ উদ্দিন ইউপি সদস্য তাঁর কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা কার্ড করে দেওয়ার জন্য ৫০০০ টাকা, সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে দশ হাজার টাকা, নাতিকে আইএসপিপির (যত্ন প্রকল্প) সুবিধাভোগী কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৫০০০ টাকা নেন। এখন তাঁর বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে ইউপি সদস্য তাঁকে করোনা সংক্রমণের ভয় দেখান।
চালকল শ্রমিক ওমর ফারুক (২২) অভিযোগ করে জানান, সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে ওই মেম্বার তাঁর কাছ থেকে ৬০০০ টাকা নিয়েছিলেন। টাকা দেওয়ার কয়েকদিন পর তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তিনি টাকা ফেরত চেয়েও পাননি। বাবা আবদুল কদ্দুছ মারা যান। কিছুদিন পর তাঁর দাদী সমলা খাতুনও মারা যান। সমলার বয়স্ক ভাতার কার্ডটি ফেরত নিয়ে যান মেম্বার। অথছ নিয়ম অনুযায়ী কার্ডের শেষ তিন মাসের ভাতা সমলার পরিবারের পাবার কথা। ওমর ফারুক বলেন, কয়েকদিনের ব্যবধানে আমার বাবা ও দাদী মারা যান। কিন্তু মেম্বার আমার টাকাগুলো ফেরত দেননি।
এবিষয়ে রাজীবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোদাব্বিরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়টি তাঁকে কেউ জানায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা , ৩১ মে, (ডেইলি টাইমস২৪)/আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close