মুক্তমত

ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও বাজারজাত করতে কত সময় ও কি কি প্রক্রিয়া লাগে?

ঢাকা ,০৪জুলাই,(ডেইলি টাইমস২৪) :ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম:  রোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করল। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কান্নাকাটি ও আবেগের মাধ্যমে জানান যে, সব ধাপ শেষ করে আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন বাজারে আনা সম্ভব হবে। কান্নাকাটি করুক আর আবেগ দিয়েই ঘোষণা করুক না কেন, ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন বাজার আনবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও গবেষক, এটাতো খুব খুশির খবর। এই জন্য তাদের সাধুবাদ জানায়। যদিত্ত পৃথিবীর ইতিহাসে ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন বাজারে আনা সম্ভব আগেও হয়নি বা ভবিষতে হবে বলে বিজ্ঞান মনে করে না। অবশ্য সব সম্ভবের দেশে সবকিছুই সম্ভব।

এবার আসি বিজ্ঞান ও গবেষকরা কি বলেন, ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও বাজারজাত করতে কত সময় লাগে ও কি কি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে গবেষকেরা একটি ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যে ছুটছেন। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৪০টির বেশি ভ্যাকসিনের ওপর নজর রেখেছে, শুধু বাংলাদেশী গ্লোব বায়োটেকের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন ছাড়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচিত গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিনের উপরও নজর রাখা। যাই হউক, ভ্যাকসিন তৈরি ও পরীক্ষা করতে সাধারণত বেশ কয়েক বছর সময় লাগে। বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে তবেই ভ্যাকসিন ব্যবহারের উপযোগী হয়। তবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে গবেষকেরা ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, যেখানে গ্লোব বায়োটেক ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন বাজারে আনাবে।

ভ্যাকসিন মূলত ভাইরাসের প্রতিরূপ বা ভাইরাসের অংশ। যা সুরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে। তবে ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে অন্য ওষুধের চেয়ে উন্নত নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে হয়। কারণ, এটি লাখো মানুষের শরীরে দেওয়া হয়ে থাকে। ভ্যাকসিন মূলত কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। প্রি-ক্লিনিক্যাল ধাপের পরীক্ষায় গবেষকেরা ভ্যাকসিন মূলত পশুর দেহে প্রয়োগ করেন এবং তাতে প্রতিরোধী ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর পরীক্ষার প্রথম ধাপে অল্প কয়েকজন মানুষের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে এর নিরাপত্তা ও প্রতিরোধী ক্ষমতা দেখা হয়। দ্বিতীয় ধাপে কয়েক শ মানুষের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে এর নিরাপত্তা ও ডোজ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয় ধাপে এসে কয়েক হাজার মানুষের শরীরে ভ্যাকসিন দিয়ে এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ সময় নিয়ন্ত্রিত গ্রুপকে ভিন্ন ওষুধ বা প্লাসেবো দিয়েও পরীক্ষা করে দেখা হয়।

এতসবের পর সাধারণত কাজ করলে ভ্যাকসিন বাজার আসে। এবার আপনেরা চিন্তা করেন ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে কিভাবে ভ্যাকসিন বাজারে আসবে। অবশ্য সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ সবকিছুই সম্ভব তার সাথে যদি চেতনা ও কিছু উপসর্গ যোগ করা হয় তাহলে তো কোন কথায় নাই।(সংগৃহীত)

ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম

সিনিয়র সাইন্টিষ্ট, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা ,০৪জুলাই,(ডেইলি টাইমস২৪) /আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close