বিনোদন

ববিতাকে চিরকুটে কী লিখেছিলেন সালমান শাহ?

ঢাকা,০৩ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪): নায়ক সালমান শাহ। মৃত্যুর দু’যুগ পরও এখনও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা যার। এখনও টিভি পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন।

তার অভিনীত ছবির গান টিভিতে প্রচার হলে তা দর্শক এড়িয়ে যেতে পারেন না! এমনও দেখা গেছে, একই সময়ে দুটি টিভি চ্যানেলের একটিতে নতুন কোনো ছবি প্রচার হচ্ছে আর অন্যটিতে সালমান শাহের ছবি প্রচার হচ্ছে- দর্শক যেন সালমান শাহের ছবি দেখার প্রতিই বেশি আগ্রহী। এ নায়কের ছবি দেখার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দর্শকরা শুধু তারই পারফরমেন্স বেশি উপভোগ করেন।

নায়কের সঙ্গে কে আছেন- তা কখনই জরুরি কোনো বিষয় নয় দর্শকের কাছে। মৃত্যুর এত বছর পরও শুধু দুর্দান্ত অভিনয় এবং ফ্যাশনের ভিন্নমাত্রা দিয়েই আজও দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে আছেন সালমান। ঢাকাই ছবির ইতিহাসে এমন আর কোনো নায়কের ক্ষেত্রে এখনও ঘটেনি।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতার সঙ্গে সালমান শাহ ৪টি ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এগুলো হচ্ছে- বাদল খন্দকারের ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, দীলিপ সোমের ‘মহামিলন’, শিবলী সাদিকের ‘মায়ের অধিকার’ ও জাকির হোসেন রাজুর ‘জীবন সংসার’।

দুটি ছবিতে সালমানের মায়ের ভূমিকায় এবং দুটি ছবিতে সালমানের ভাবির ভূমিকায় অভিনয় করেন ববিতা। দীলিপ সোমের ‘মহামিলন’ ছবির শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ববিতা বলেন, ‘কক্সবাজারে এ ছবির শুটিং হয়েছিল। আমার মনে আছে, একটি দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল পাহাড়ের ওপর। দৃশ্যটিতে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলাম আমি, রাজীব ভাই, শারমিন, সালমান শাহ ও শাবনূর। সেই দৃশ্যটি ধারণের নানা সময় আমি শুটিংয়ে আনা অন্য একটি চেয়ারে বসি।

কারণ হোটেল থেকে আমার চেয়ারটি নিতে মনে ছিল না। সালমান বিষয়টি খেয়াল করে এবং শুটিংয়ে তার নেয়া চেয়ারটি আমাকে দেয়। আমি নিষেধ করার পরও সালমান তার নিজের ব্যবহৃত চেয়ারটি তখনই আমাকে দিয়ে দেয় এবং সেটি স্থায়ীভাবে। সেই চেয়ারটি দীর্ঘদিন আমার কাছে সংরক্ষিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরও একটি ঘটনার কথা আমার মনে আছে। যখন মোবাইল ফোন প্রথম বাজারে এলো, সে সময় সাইজে অনেক বড় ছিল। তো আমি সেই মোবাইল ব্যবহার করতে পারতাম না। সালমানই আমাকে একটি চিরকুটে মোবাইল ব্যবহার করার পদ্ধতি প্রথম শিখিয়ে দিয়েছিল।

সেটি দেখে পরবর্তীকালে মোবাইল ব্যবহার করা আমার কাছে বেশ সহজ হয়ে গিয়েছিল। সালমানের নিজের হাতের লেখা সেই চিরকুটটি এখনও আমার কাছে বেশ যত্নে রাখা আছে। সেই চিরকুটের মাঝে প্রায়ই আমাদের হারিয়ে যাওয়া সালমানকে খুঁজে বেড়াই। ও একটি কথা আমাকে প্রায়ই বলত, আপন মা না হলেও আপনি আমার সুইট মা। মা ছাড়া সে আমাকে অন্য কিছুই আর ডাকত না। সত্যিই এতটা বছর পরও তাকে নিয়ে কথা বলতে গেলে আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে যাই।’

‘আর অভিনেতা হিসেবে সালমান নিজেই ছিল অনন্য। এমনভাবে সংলাপ বলত বা এক্সপ্রেশন দিত এটি বুঝার উপায় থাকত না, অভিনয় না কি সত্যি! পরিচালকের কাছ থেকে দৃশ্য বুঝে নিয়ে এমনভাবে সংলাপ বলত, তার সহশিল্পীর জন্যই সে অভিনয়ের কাউন্টার দেয়া কঠিন হয়ে যেত।

ঢাকা,০৩ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪) /আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close