অর্থ ও বাণিজ্যপ্রধান সংবাদ

ভারতীয় পণ্য পরিবহন চালকদের বানিজ্য বন্ধের হুমকি

ঢাকা,১৩ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪): বেনাপোল প্রতিনিধি:
বেনাপোল বন্দরের সাথে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব থাকলেও দির্ঘদিন ধরে বেনাপোল বন্দরে পণ্য রক্ষনা-বেক্ষনে বেহাল দশা, পণ্য খালাস ও পরীক্ষন নিয়ে জটিলতা আর তীব্র জায়গা সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনায় স্থবির হয়ে পড়েছে বাণিজ্যক কার্যক্রম। এতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের পাশাপাশি বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন আমদানি পণ্য বহনকারী ভারতীয় ট্রাক চালকেরা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, বাণিজ্য ত্বরান্তিত করতে বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যে গতি ফিরবে।

রোববার সকালে ভারতীয় ট্রাক চালকদের বানিজ্য বন্ধরে হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক।
জানা যায়, ১৯৭২ সাল থেকে বেনাপোল বন্দরের সাথে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু। এ বন্দর থেকে ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক শহর কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে প্রথম থেকেই এপথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে বেনাপোল বন্দরে নানান অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় মারাত্বক ভাবে ব্যহত হয়ে আসছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। বার বার রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে ব্যবসায়ীরা সর্বশান্ত হচ্ছেন। বন্দরে জায়গার অভাবে দিনের পর দিন পণ্য নিয়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় লোকশানের পাল্লা ভারী হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যার প্রভাব পড়ছে দেশিয় বাজারে আমদানি পণ্যের উপর। অথচ এ বন্দর থেকে প্রতিবছর সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ জানিয়ে ভারতের পেট্রাপোলের বঁনগা মটর শ্রমিক এ্যাসোসিয়েশন আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন দ্রুত পণ্য খালাসসহ অব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান না আসলে এ মাসে যে কোন সময় তারা বেনাপোল বন্দরে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিবেন। এতে দুঃচিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি, রফতারি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, এমনিতেই করোনার কারনে তিন মাস এপথে বাণিজ্য বন্ধ ছিল। আবার যদি আমদানি বন্ধ হয়ে যায় তবে বড় ধরনের লোকশানের মুখে পড়বেন তারা। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দাবীকে সমর্থন করেন তিনি।

সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর ররহমান জানান, সুষ্ট বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেনাপোল বন্দরে সমস্যার অন্ত নাই। বন্দরের জায়গার অভাব আর পণ্য খালাসের যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় তারা সময় মত পণ্য খালাস নিতে পারছেন না। অথচ এ বন্দর থেকে প্রতিবছর তারা সরকারকে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিচ্ছেন। নিরাপত্তা সমস্যায় বার বার অগ্নিকান্ডে পথে বসছেন ব্যবসায়ীরা। দিনের পর দিন খালাসের অপেক্ষায় ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় আমদানি খরচ বাড়ছে। সন্তোষ জনক সমাধানের মাধ্যমে যাতে বাণিজ্য সচল থাকে তার জন্য আলোচনা চলছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ভারতীয়রা বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এপথে বাণিজ্য বন্ধের যে হুমকি দিয়েছেন তার যৌক্তিকতা আছে। উন্নয়ন নিয়ে বেনাপোল বন্দরের কোন মাথা ব্যাথা নাই।বন্দরের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৪০ হাজার মে:টন কিন্তু পণ্য থাকে সব সময় ২ লাখ মে:টন। অবহেলা অযন্তে খোলা আকাশের নিচে এসব পণ্য কাদা, পানিতে ভিজে মান নষ্ট হচ্ছে। বার বার বন্দর কর্তৃপক্ষকে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবী জানানো হলেও নজরদারী কম।

এদিকে বেনাপোল বন্দরকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের অধিন থেকে সরিয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধীনে নেওয়ার জোর দাবী তুলেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বার বার বন্দর কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তাদের উদাসিনতায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। যার খেসারত ভোগ করতে করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সরকারও হারাচ্ছে কাঙ্খিত রাজস্ব। অথচ যে সব বন্দরে এখনও বাণিজ্য শুরু হয়নি সেখানে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যায় শুরু হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশের ৭০ শতাংশ ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের চাহিদা থাকলেও যথাযথ উন্নয় নাই। বন্দরের গুরুত্ব বুঝে সরকারকে উন্নয়ন করতে হবে। তবে ভারত অংশে পেট্রাপোল বন্দরে ২০০৮ সালে স্থলবন্দর ঘোষণার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অথীনে নিয়ে সেখানে আগামী দুইশ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে যেমন আধুনিক মানের সবধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে তেমনি বেড়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রয়েছে এসি ওয়ারহাউজ, সিসি ক্যামেরা, সীমান্তরক্ষী বিএসএফের সশস্ত্র নিরাপত্তা। যার কোনটাই নাই বেনাপোল বন্দরে। উন্নয়ন বাড়াতে হলে বন্দরকে নৌ পরিবহনের অধিন থেকে সরিয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধিনে নিতে হবে। যা ইতি মধ্যে ভারত সরকার পেট্রাপোল বন্দরে করেছে। বেনাপোল বন্দরের যথাযথ উন্নয়ন করতে হলে দ্রুত নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে সরিয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধিনে নিতে হবে।।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক(প্রশাসন) আব্দুল জলিল বলেন, ইতি মধ্যে বন্দরের বেশ কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন জায়গা অধিগ্রহন,পণ্যগার বাড়ানো, চুরি রোধে সিসি ক্যামেরা ও বন্দরের চারিপাশে প্রাচীর নির্মানের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। বন্দরকে নৌ পরিবহনের অধিন থেকে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধিনে নেওয়ার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিন্ধান্তের বিষয়।

উল্লেখ্য, দেশের চলমান ১২টি বন্দরের সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্ব দাতা বেনাপোল বন্দর। বাণিজ্যিক দিক থেকে চট্রগ্রাম বন্দরের পর বেনাপোল বন্দরের অবস্থান। বেনাপোল বন্দরে আমদানি পন্য রক্ষনাবেক্ষনে বন্দরে ৩২টি ওয়ার হাউজ,একটি ট্রান্সসিপমেন্ট ইয়ার্ড,একটি রফতানি টার্মিনাল ও একটি ভারতীয় চ্যাচিজ রাখার টার্মিনাল রয়েছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

ঢাকা,১৩ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪) /আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button
Close