জেলার সংবাদ

ভাঙ্গায় শতভাগ সক্রিয় হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত

ঢাকা,২০ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪): ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাছিরাবাদ,কাউলীবেড়া,ঘারুয়া,কালামৃধা ও আলগী ইউনিয়নে চলমান বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করন(২য় পর্যায়)প্রকল্পের কাজের বর্তমান হালচাল সন্তুষ্টজনক বলে স্ব-স্ব ইউনিয়নের স্থানীয় বিচারপ্রার্থী জনসাধারন জানিয়েছেন।কালামৃধা ইউনিয়ন গ্রাম আদালত সহকারী ও অত্র ইউ,পি’র বর্তমান চেয়ারম্যান লিটন মাতুব্বর লিটু সহ স্থানীয় সাধারন বিচারপ্রার্থীরা জানান মাত্র (১০)দশ টাকা ফৌজদারী ও (২০)বিশ টাকা দেওয়ানী মামলার ফিস দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিলে চেয়ারম্যান তা যাচাই বাছাই করে গ্রাম আদালত সহকারীকে মামলা গ্রহন করা হোক-মতে নির্দেশনা দিলেই মামলার কার্যক্রম শুরু।মামলার কাজ আমাদের দুই পক্ষের কারোরই কোনো অতিরিক্ত চাপ পড়েনা এবংব্যস্ততার কিছু নেই।প্রতিবাদী সমনের নোটিশ পাওয়া মাত্রই নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই যদি আবেদনকারী পক্ষকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট আবেদনকারীর দাবী স্বীকার ও দাবী পূরন করে সঠিক বাস্তবায়ন করেন তবে চেয়ারম্যান বিধি-৩১ মতে স্থানীয় মীমাংসা দেখিয়ে মামলাটি নি®পত্তি করতে পারেন।অন্যথায় গ্রাম আদালত বিচারিক ধাপে উভয়পক্ষকে হাজির হওয়া,পক্ষদ্বয়দের গ্রাম আদালত সদস্য মনোনয়নের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া এবং স্ব স্ব পক্ষের নিজ স্বাক্ষরিত নিজের ইচ্ছামত প্রতিনিধি মনোনয়নের ব্যবস্থা গ্রহন এবং গ্রাম আদালত গঠন,প্রতিবাদী পক্ষকে (০৩)তিন দিনের মধ্যে আপত্তি দাখিলের ঐচ্ছিক বিষয়টি অবগত করানো,উভয় পক্ষের মনোনীত সদস্যদের বিচারিক কাজে অংশ নেওয়ার দাওয়াতপত্র প্রেরন,উভয়পক্ষদের সাক্ষীদের প্রতি সমন প্রেরনের মাধ্যমে প্রথম গ্রাম আদালত শুনানীতে স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহনের ব্যবস্থা,চূড়ান্ত শুনানীর আগে উভয়পক্ষকে প্রাক বিচারের মাধ্যমে মীমাংসার প্রস্তাব,চূড়ান্ত শুনানীর মাধ্যমে মামলাটি নি®পত্তি পর্যন্ত সমুদয় কার্যক্রম সরকারের গ্রাম আদালত,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান এবং গ্রাম আদালত সহকারীদের একান্ত দায়িত্ববোধ হতেই সু স¤পন্ন হয়ে থাকে।আমাদের কথা আমরাই সাবলীল ভাষা ও ভঙ্গীতে বলতে পারি। উভয় পক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্ধি বিচারিক প্যানেলের সদস্য ও গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানসহ গ্রাম আদালত সহকারীর সন্মুখে দিতে হয় যে কারনে কারোরটাই গোপন রাখা কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।সঠিক উপায়ে নথিপত্র পর্যালোচনা,তথ্য উপাত্ত খুঁজে,উভয়পক্ষ ও উভয়পক্ষের সাক্ষীর জবানবন্ধী যাচাই বাছাই করে মনোনীত প্রতিনিধিদল স্বাধীন মতামত গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানকে নিয়ে প্রকাশ করেন ।অতঃপর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারনমতে চূড়ান্ত শুনানীর মধ্য দিয়ে চলমান মামলার ডিক্রী বা আদেশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নি®পত্তিকৃত নথিটি ইউ,পি চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরিত হয় এবং সু রক্ষিত রাখার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।স্থানীয় জনৈক বিচার সুবিধাভোগী বলেন যে,গ্রাম আদালতের ডিক্রি বা রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের কোনো রকম ব্যবস্থা নিতে হয় না,গ্রাম আদালতের রায় বাস্তবায়নে অত্র ইউ,পি চেয়ারম্যান যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকেন।অন্য আর একজন সুবিধাভোগী উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের সোনামুখীর চর গ্রামের আবু মোড়ল জানান, আমি মামলার আবেদনকারী ছিলাম।কর্মব্যস্ততায় ঢাকায় আমার বসবাস।ঢাকা থেকে গ্রামে এসে আমি আমার পাওনা টাকা কিছুতেই তুলতে পারছিলাম না।আমি গ্রামে আসা মাত্রই আমি যার কাছে টাকা পেতাম তিনি হাওয়া হয়ে যেতেন। তার পরিবারের কেউই তার ব্যাপারে কোনো দায়িত্ব জ্ঞানস¤পন্ন জবাব দিতেন না।আমার পরিবারে চলছিল চরম অস¦চ্ছলতা।এমন সময়ে আমি আদালতের অফিসার তরিকুল ইসলামের কাছে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিষয়টি বলি। তার কথা মত আমি মামলা করার পর রায় হলো।আমি আমার দাবিকৃত পাওনা টাকা মাত্র (৩০) ত্রিশ দিনের মধ্যে মাত্র (২০) বিশ টাকা খরচ করেই ফেরৎ পেলাম।আমি আমার পরিবারসহ আরো অনেকেই অনেক অনেক খুশী ও উপকৃত হয়েছি এই গ্রাম আদালত ও গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানের ভূমিকাতে। ,গ্রাম আদালতের কার্যক্রম প্রকল্পের প্রথম দিকে কিছুটা স্থিরতা থাকলেও এখন যথেষ্ট প্রচার-প্রচারনা,আইনের যথার্থ ব্যবহার,সঠিক বিচার পেতে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালনের মধ্য দিয়ে অত্র এলাকার মানুষের কাছে বিশ্বাস স্থাপন করতে পেরেছে।
এ ব্যাপারে কালামৃধা ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মাতুব্বর বলেন যে,আমি অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই এই গ্রাম আদালত সক্রিয়করন(২য় পর্যায়)প্রকল্পের আওতায় আমাদের ইউনিয়ন আওতাভূক্ত হয়।বিচারপ্রার্থীরা যথেষ্ট সুবিধা পাচ্ছেন। এ সুবিধা জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে যাচ্ছে।

ঢাকা,২০ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪) /আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button