জেলার সংবাদ

শেখ হাসিনা অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বেলেছেন: মেয়র লিটন

ঢাকা,২৮ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪): বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, আজ বিশ্বমানবতার মা, ডিজিটাল দেশের রুপকার, বিশ্বনন্দিনী প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন। শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের বড় সন্তান। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেব ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনকারী শেখ হাসিনা তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা ছিলেন। গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে পথে প্রান্তরে শত শত মাইল হেটে ১৯৭৫ পর বিধ্বস্ত আওয়ামীলীগকে সু-সংগঠতি করেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বেলেছেন। কথাগুলো বললেন প্রধানমন্ত্রীর ৭৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে শার্শা অডিটরিয়মে দলের নেতাকর্মী সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে আনন্দ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে মেয়র লিটন।

সোমবার নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, মহিলা যুবলীগ এর আয়োজনে দলীয় সভাপতি ও প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়। এ সময় সভাপতিত্ব করেন শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সাবেক উলাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিদুল আলম । অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল কেক কাটা, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল , প্রার্থনাসভা , দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ।

প্রধান অতিথি মেয়র লিটন বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে যখন স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়েছিল;তখন আজকের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন জার্মানে। তিনি এদেশের দুঃখী মানুষের কথা ভেবে তার পিতার স্বপন্ন বাস্তবায়ন করার জন্য দেশে ফিরেছিলেন। যে দেশ দীর্ঘ নয়মাস রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে; সেই দেশের মুক্তিযোদ্ধারা যখন রাস্তায় ভ্যান রিক্স্র চালাচ্ছে, রাস্তায় জুতায় কালি করছে। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধান মন্ত্রীর প্রান ঁেকদে উঠে। তাই তিনি অসহায় পঙ্গু জামাত বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চালু করলেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যদায় দাফন নিশ্চিত করেছেন মুক্তিয্দ্ধোাদের। আজ সেই নেত্রীর জন্মদিন। আপনারা আজ যে দুঃখ কষ্ট বেদনা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তার সমাপ্তি ঘটবে। আজকের প্রকৃত আওয়ামীলীগ এই শার্শায় নির্য়াতিত হচ্ছে। আপনারা মনে রাখবেন শার্শার মালিক কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়। শার্শার মালিক শার্শার মানুষ। আপনারা কারো গোলাম নন। আপনারা রাজনীতি করেন জননেত্রীর শেখ হাসিনার রাজনীতি। বঙ্গবন্ধুর ্আদর্শের রাজনীতি। তাই কোন ব্যক্তির হুমকি ধামকিতে ভয় না পেয়ে আপনারা সাহসের সাথে ধর্যৈর সাথে, আদবের সাথে রাজনীতি করেন। যদি কেউ এরপর থেকে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের অত্যাচার নির্যাতন নিপিড়ন করে তাকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেওয়ার জন্য সকলে প্রস্তুত থাকুন। আপনারা মনে রাখবেন যে ব্যক্তি আজ শার্শার মাটিতে জামাত বিএনপিকে দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছে. বিভাজন বিভেদ সৃষ্টি করছে তাতে আওয়ামীলীগ এর এই শার্শায় ভোট কমছে। বাড়ছে জামাত বিএনপির ভোট। আর চাপের মুখে আছে প্রকৃত ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা।
প্রধান অতিথি মেয়র লিটন বলেন ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এরপর থেকে ৩৯ বছর ধরে নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অন্য রাজনৈতিক জোট-দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহাজোট গড়ে ওঠে। ১৪ দল ও মহাজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ১৬ জুলাই অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয় শেখ হাসিনাকে। ওই সময় সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দি ছিলেন তিনি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এর আগেও কয়েক দফা গৃহবন্দিত্ব কেটেছে তার।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এই পর্যন্ত চার মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। ওই বছরের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন সরকার গঠন করে ।
এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় এবং ২০১৮ এর নির্বাচনে বিজয়ের পর টানা তৃতীয় মেয়াদের তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের প ম এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে অর্থাৎ মোট তিন দফা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা।
গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ১৯৯৬-২০০১ সালে তার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে নিয়োজিত আছে।
এই অ লে গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার-২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস. বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডাল-১৯৯৯, এম কে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা।

শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, মানবতার মা শেখ হাসিনার জন্য সকলে দোয়া করে তার হাতকে শক্তি শালী করতে হবে। কারন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন নিপিড়ন হয়েছে জামাত বিএনপির দ্বারা। তাতে দুঃথ ছিল না । বর্তমানে আমরা বিএনপি জামাতের চেয়ে আরো বেশী নির্যাতন ভোগ করছি আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের দ্বারা। তিনি শার্শার এমপি শেখ আফিল উদ্দিনকে ইঙ্গিত করে বলেন করোনা কালীন সময়ে আমাকে দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা আদায় করে তার নামে সেগুলো ত্রান হিসাবে দিতে বলেছিল। আমি এই ভিক্ষা বৃত্তি না করার জন্য দীর্ঘ ৫ টি মাস আমাকে বিভিন্ন ভাবে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। আমি তাকে বলতে চাই আমি কর্মচারী নই কোন মিল কলকারখানার; তাই আপনার কথা শুনতে হবে। আমরা ফ্যাক্টারীর কর্মচারী লীগ করি না আমরা আদর্শের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ করি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইলিয়াছ আযম, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মিজানুর রহমান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ কোরবান আলী, বনও পরিবশে বিষয়ক সম্পাদক শেখ সরোয়ার হোসেন, সিনিয়র সদস্য আবুল হোসেন বাবলু, বদিয়ার রহমান তরফতার, সমবায় ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, সমাজ ও ত্রান বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ খোদাবক্স,সহ দপ্তর সম্পাদক শ্যামল গোস্বামী, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আহসান উল্লাহ মাষ্টার, ডিহি ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, আওয়ামলীগ নেতা মিজানুর রহমান, শার্শা উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খতিব আমেনা বেগম, সাধারন সম্পাদক শারমিন আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক বিউটি খাতুন, আওয়ামীলীগ নেতা হালিমা খাতুন,শার্শা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম রেজা বিপুল, শার্শা উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি রুহুল কুদ্দুস ভুইয়া, বেনাপোল পৌর আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক সুকুমার দেবনাথ, যশোর জেলা আ্ওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের সিনিয়র সহ সভাপতি এমদাদুল হক বকুল, কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, ঢাকা আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন, সাবেক তিতুমির কলেজের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদত তুহিন ফারাজি, শাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আকুল হোসাইন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজল, দপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

ঢাকা,২৮ সেপ্টেম্বর,(ডেইলি টাইমস২৪) /আর এ কে

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button