মুক্তমত

ফররুখ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের কবি, গণমানুষের কবি

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর(ডেইলি টাইমস২৪): ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম: মুসলিম জাগরণের কবি, বাংলা জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।ফররুখ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের কবি, গণমানুষের কবি । তার কবিতায় বাংলাভাষা ও বাংলাদেশের মানুষের জীবনচিত্র অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। তার কবিতায় তিনি তুলে এনেছেন বাংলার শেকড় ও সংস্কৃতি। তিনি ছিলেন বাংলা কাব্য-সাহিত্যের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। আমাদের সাহিত্য-ইতিহাসের স্বল্পালোচিত ব্যক্তিদের অন্যতম। বাংলা কাব্যে তাঁর আসন তর্কাতীতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। নজরুলের মতই বাংলা কাব্যগগণে তাঁর আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মত।

মাইকেল তার কাব্যকাহিনী গড়ে তুলতে যেমন মহাভারত ও রামায়ণের মতো গ্রন্থ বেছে নিয়েছিলেন; ফররুখ তেমন সামনে টেনেছিলেন বিশ্ব মুসলিম সাহিত্য, আলিফ লায়লা ও হাতেম তাই এর মতো কাহিনীর। উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ার দিকে মুসলিম জাগরণের যে স্রোত প্রবাহিত হয়, তিনি তার প্রত্যক্ষ ফসল। সেই সাথে গেয়েছেন মানবতার জয়গান। আযানের মতো উদাত্ত স্বরে তার আহবান ধ্বনিত হয়েছে জাতির উদ্দেশ্যে।

রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?

এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?

সেতারা, হেলাল এখনো উঠেনি জেগে?

তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;

অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।(পাঞ্জেরী, সাত সাগরের মাঝি)

কবি ফররুখ ছিলেন গণজাগরণের কবি। তিনি মানুষের মধ্যে চেতনাবোধ তৈরি করে গেছেন। স্বাধীনতা, সাম্য ও মুক্তির চেতনা। আজকে কবিদের মধ্যে সেই জাগরণ নেই। দেশের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নেই। চলাফেরার স্বাধীনতা নেই। কিন্তু কবি-সাহিত্যিকেরা নীরবতা পালন করছেন। ফররুখ বেঁচে থাকলে অবশ্যই জাগরণের কথা বলতেন।

ফররুখ আহমদ বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষার একজন প্রখ্যাত মৌলিক কবি। বাঙালি ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন ফররুখ। তার কবিতায় বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পে বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামী ভাবধারার বাহক হলেও তাঁর কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন এবং বাক্প্রতিমার অনন্য বৈশিষ্টে সমুজ্জ্বল। আধুনিকতার সকল লক্ষণ তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত। রোমান্টিকতা থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের ধারাবাহিকতায় ফররুখ আহমদের সৃষ্টিশীলতা মৌলিক বলে সর্বজন স্বীকৃতি পেয়েছে।

একটি জাতির ঐতিহ্য ও ইতিহাস চেতনা জাতির অস্তিত্বের জন্য অতীব প্রয়োজন। ঐতিহ্য মূলতঃ কোন আরোপিত সম্পদ নয়, গ্রহণ, বর্জন ও অর্জনের মাধ্যমেই তার ব্যাপ্তি; সুতরাং ঐতিহ্যের মূল সম্পদকে গ্রহণ করে এবং তা পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে ব্যাপ্ত করে যে সাহিত্য রচিত হয় তার মজবুত স্থাপন ও স্থায়ী মূল্য অপরিসীম। টিএস এলিয়ট ও আইরিশ কবি ডাব্লিউ বি ইয়েটস দেখিয়ছেন ঐতিহ্য কবিতার জন্য কত গভীর তাৎপর্য বহন করে। সাহিত্য সৃষ্টিতে ঐতিহ্য অবলম্বনকারী বিখ্যাত ইংরেজ কবি ইয়েটস ও এলিয়ট, উর্দু মহাকবি ইকবাল এবং বাংলার কবি মধুসূদন ছিলেন ফররুখের প্রিয় কবিদের সূচীতে শীর্ষ অবস্থানে।

কবি ফররুখ আহমদের সমসাময়িক ও সহকর্মীদের সমগ্র উদ্যোগ ঐতিহ্য চেতনা মন্ডিত সাহিত্য সৃষ্টিতে যতখানি ভূমিকা রেখেছে, তার চেয়ে অধিক তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে ফরুখ আহমদের একক সৃজনবুদ্ধি ও ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা। নিছক আবেগ আতিশয্য প্রবাহে কবি এ পথে বেরিয়ে পড়েননি। কবির কাব্য প্রতিভার সাথে ঐতিহ্যবোধ ও গভীরতর বিশ্বাসের সমন্বয় সাধনই তাঁকে এ পথে বিচরণে সার্থক করেছে। কবির বিশ্বাসের সাথে আলোকের ও বাণীমূর্তিও দৃঢ়তর বন্ধন জাতীয় কাব্য সৃষ্টির ভূমিকায় এতটা সফলতা প্রদান করেছে।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মৌলিক প্রতিভার অধিকারী শক্তিমান কবি ফররুখ আহমদ বৃহত্তর যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার (বর্তমানে জেলা) অন্তর্গত মাঝআইল গ্রামে ১৯১৮ সনের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সনের ১৯ অক্টোবর তিনি ঢাকায় ইন্তিকাল করেন। বাংলা কাব্যে তাঁর অবদান বিপুল

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর(ডেইলি টাইমস২৪)/আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button