জেলার সংবাদপ্রধান সংবাদ

ঘোড়াঘাটের খরস্রোতা করতোয়া নদীর সে জৌলুস আর নেই

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ডেইলি টাইমস২৪): ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুর ঘোড়াঘাটের এককালের খরস্রোতা করতোয়া নদী এখন মৃত প্রায়। সে জৌলুস আর নেই। নদীটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় নাব্যতা সংকটে নদীতে বড় বড় চর জেগে উঠেছে। এসব চরে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মাছ উৎপাদন ও ধ্বংশ হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। করতোয়া নদীর দুপাশ ভরাট করে দখল করে নিয়েছে স্থানীয়রা। উজান থেকে তেমন পানি সরবরাহ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুম ছাড়া নদীতে পানি থাকে না। নদী তীরবর্তী মানুষরা জেগে ওঠা চরে রসুন, আলু, পিয়াজ, ভুট্টা ও ইরি-বোরো ধান চাষ করে। জানা যায়, করতোয়া নদীটি ভারতের আসাম ও বিহার এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে করতোয়া নাম ধারন করেছে। এই নদীর পাড়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার শালিকাদহ,কুলানন্দপুর,শ্রীচন্দ্রপুর, জয়রামপুর ,ডাঙ্গা, মারুপাড়া, ভেলামারী, সাতপাড়া, গোবিন্দপুর, ভর্ণাপাড়া, গুয়াগাছি, কুমুরিয়া, লালমাটি ও ঘোড়াঘাট পৌর সদর সহ কয়েকটি গ্রাম অবস্থিত। কয়েক হাজার বছরের স্রোতস্বিনী এই নদীর উপর দিয়ে ল , স্টীমার বড় নৌকা চলা চল করত। নদীর দুই পাড়ে বড় বড় হাটবাজার ছিল। ইলিশ সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়ত জেলেদের জালে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সংস্কারের অভাবে নদীর তলদেশের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে ভরাট হয়ে গেছে। নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকায় অনেক এলাকায় হেটে পার হচ্ছে মানুষ। মৃত প্রায় করতোয়া নদীতে মাছ উৎপাদন কমে গেছে। নদীর মাছ পাওয়ার আশা ত্যাগ করে পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষ করা শুরু করেছে। জানা যায়, করতোয়া নদীর দুই তীরে যে যার মতো দখলের ফলে একদিকে যেমন নদীর নাব্য হারাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দুই কূল প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। এই নদীই এক সময় ঘোড়াঘাট উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যম ছিল। চলছিল বিভিন্ন ধরনের পাল তোলা নৌকা । সরকারের পরিকল্পনা ও নদী শাসনের অভাবে ধীরে ধীরে এই নদী তার জৌলুস হারিয়ে সংকুচিত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের বাহন হিসেবে ব্যবসায়ীরা নৌকা ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য করত। সেকালে ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছিল,যা এই করতোয়া নদীর অবদান। এ নদী এখন ভরাট হয়ে শস্য ক্ষেতের সমান্তরালে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে নদীর বুক ভরাট করে রীতিমেতো আবাদ হচ্ছে নানা জাতের ফসল। এখন করোতোয়ার বুকে চাষ হচ্ছে ইরি বোরো ধান সহ শতিকালীন সবজি। নদীতে পরিবেশ দেখে কেউ আনন্দিত আবার কেউ আতঙ্কিত হন। এ যেন আগামী প্রজন্মের কাছে প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কার পূর্বাভাষ। এককালে করতোয়া নদী ছিল যৌবন জোয়ারে পরিপূর্ণ। কিন্তু এখন আর সেই পূর্বের স্রোতস্বিনী করতোয়া নদী নেই। নদী নিয়ে কবির ভাবনা আর শিল্পীর গানের সুর সবকিছুই যেন এখন স্মৃতির পাতায় বন্দি। নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন ইরি-বোরো ধানের বীজতলা ও ধান চাষাবাদসহ বিভিন্ন ফসল ফলায় বর্তমান চিত্র দেখে আর মনে হবে না এই সেই স্রোতস্বিনী করতোয়া নদী। আজ নদীতে পানি শূন্যতার কারণে সেই চিত্র চোখে পড়ে না। পানি শূন্যতার কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা আর আগের মতো তাদের সেচ কাজেও পানি দিতে পারছেন না। উপজেলার উল্লেখিত গ্রামগুলোতে উল্লেখযোগ্য পুকুর দীঘি, জলাশয় ও বিল নেই। যেখানে সারাবছর পানি থাকে। এছাড়া কয়েক বছর ধরে বন্যা না হওয়ায় সব ধরনের মাছও আসতে পারেনি। ফলে দেশি মাছের চরম আকাল দেখা দিয়েছে। এ কারণে ‘মাছে ভাতে বাঙ্গালি’ এ শব্দটিও ভুলতে বসেছে। এখানকার মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন সহ বিভিন্ন কারনে নদীটি তার জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। বিষেশত, নদীর বিভিন্ন এলাকায় বাধ নির্মাণ, ব্রিজ-কালভার্ট, পুল,সেতু নির্মানের ফলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় নদীটি তার নাব্য হারিয়ে শুকিয়ে গেছে। নদীটি খনন না করলে ভবিষ্যতে এর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা,জীববৈচিত্র্য ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে নদীর সংস্কার জরুরি।

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ডেইলি টাইমস২৪)/আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button