জাতীয়প্রধান সংবাদ

বসলো পদ্মাসেতুর ৩৯তম স্প্যান

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর (ডেইলি টাইমস২৪): পদ্মাসেতুতে ৩৯তম স্প্যান ‘টু-ডি’ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের সেতুর ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে এ স্প্যানটি।

আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১২টার পর এ স্প্যানটি কসানো হয়। এর ফলে পদ্মার মূল নদীতে অবস্থিত দৃশ্যমান হলো সেতুর ৫ হাজার ৮৫০ মিটার। এখন ৬,১৫০ মিটার সেতুতে স্প্যান বসানো বাকি থাকলো ২টি, যাতে দৃশ্যমান হবে ৩০০ মিটার। ৩৮তম স্প্যান বসানোর ৬ দিনের মাথায় এ স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শেষ করে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা।

এর আগে, সকাল ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ‘তিয়ান-ই’ নামের ভাসমান ক্রেনটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটিকে বহন করে রওনা দেয়। এরপর ৪০ মিনিট সময় নিয়ে ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের কাছে এসে পৌঁছায়।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশলী সূত্র জানিয়েছে, স্প্যানটিকে নির্ধারিত পিলারের কাছে নিয়া এসে মূল নদীতে ভাসমান ক্রেনের নোঙর, পজিশনিং, এরপর পিলারের উচ্চতায় স্প্যানটিকে তোলা ও বেয়ারিং এর ওপর রাখার ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়। সকাল থেকে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো যাচাইবাছাই ও শেষ ধাপের পরীক্ষানিরীক্ষাও হয়েছে।

এদিকে, ১০ ও ১১ নম্বর পিলারের আশেপাশে চলাচলকারী নৌযানগুলো যাতে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইটি বোট সারাক্ষণ সেখানে অবস্থান করে। নিরাপদ দূরত্ব দিয়ে চলাচলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রকৌশলী সূত্রে আরও জানা গেছে, গেল মাসেও টার্গেট অনুযায়ী চারটি স্প্যান বসানো হয়েছে সেতুতে। চলতি বছরের বিজয় দিবসের আগেই মাওয়া প্রান্তে ৪১তম স্প্যানটি বসার কথা রয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিলো। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এর মধ্যে বসানো হয় এক হাজার ২৩৯টির বেশি রোড স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। এরমধ্যে বসানো হয় এক হাজার ৮৪৮টির বেশি রেল স্ল্যাব। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের বসানো স্প্যানগুলোতে এসব স্ল্যাব বসানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগে মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে তিনটি স্প্যানের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মাসেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর (ডেইলি টাইমস২৪)/আর এ কে

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button