জেলার সংবাদ

ধর্ষনকে পুজি করে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর (ডেইলি টাইমস২৪): বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
সারাদেশ যখন ধর্ষন এর বিচার এর দাবিতে উত্তাল তখন ধর্ষন এর মত একটি স্পর্শ কাতর বিষয় নিয়ে এক তরুনকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠিয়েছে হাসনা খাতুন নামে এক গৃহ পরিচারিকার বিরুদ্ধে। ধর্ষন এর বিচার দাবি মৃত্যু দন্ডের দাবিতে দেশ জুড়ে আন্দোলন সংগ্রামে যখন মুখর তখন সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে ওই গৃহ পরিচারিকা তরুনী ও তার পরিবার। সে শার্শার নাভারন সাতক্ষীরা মোড় এলাকায় একটি বাসায় কাজ করার সময় তার ফুপু রহিমা বেগম, স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি ও জালাল হোসেন এর প্ররোচনায় পড়ে অর্থের লোভে মিথ্যা মামলা দায়ের করে শার্শা থানায়। ওই ঘটনায় মেডিকেল রিপোর্ট আসার আগেই ধর্ষনকারী সন্দেহে আজমাল ফাহিম আবির নামে এক তরুনকে পুলিশ আটক করে। এরপর ঐ তরুনী তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে কোর্টে যেয়ে জবানবন্দী দেয় এটা সাজানো মামলা। অতপর ওই যুবক ২০ দিন কারাবাস এর পর জামিন পায়।

হাসনা খাতুন নামে ওই তরুনী বলেন, আমি আবির এর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছি। এটা আমার ভুল। আমি ভুল বুঝতে পেরে তা সংশোধন করে নিয়েছি। আমি লোভে পড়েছিলাম। আমি মাথায় শয়তানী বুদ্ধি এনেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে। এদিকে আবির হাসনার মিলনের মেডিকেল রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ওই রিাপোর্টে ধর্ষন এর কোন আলামত পায়নি।

উলাশী গ্রামের রিজিয়া বেগম বলেন, মেয়েটি একজন প্রতারক। সে তার ফপুর প্ররোচানায় পাড়ে নিরীহ ওই ছেলেটির নামে মিথ্যা মামলা করেছিল অর্থের লোভে। সে চিটাগাং সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গৃহপরিচারিকার কাজ করত। তার ফুপুর বাড়ি শার্শার উলাশি এসে সে একটি কুল বাগানে স্থানীয় এক যুবকের সাথে অনৈতিক কাজ করে ধরাও পড়ে। এরপর সে নাভারন আলহাজ্ব হাজী এনামুল সাহেব এর বাড়িতে কাজের জন্য যায় তার ফুপু রহিমা খাতুনের মাধ্যেমে। ওই বাড়ির লোকজন এই নারীর চরিত্র সম্পর্কে জানত না। সে তিন মাস ওই বাড়িতে কাজ করেছে। তার সাথে খারাপ কোন কাজ করে তবে সে তিন মাস পরে বলবে কেন? তাছাড়া নাভারন থেকে হাসান তার ফুপু বাড়ি বেড়াতে এসে পরিকল্পনা মাফিক এধরনের মিথ্যা অপবাদ রটিয়েছে যা অত্যান্ত লজ্জাসকর।

নাভারন সাতক্ষীরা মোড়ের এনামুল হক এর ছেলে আবির বলে আমি সফট টাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে ঢাকায় পড়াশুনা করি। যা আমেরিকার ক্যালোফোর্নিয়া ইউনিভারসিটি থেকে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করে। এ্ই পড়াশুনার কাজে ঢাকায় াকতে হয়। করোনা কালীন সময় আমি বাড়ি আসি আর সেই সময় ওই তরুনী কি কারনে যে আমার নামে মিথ্যা মামলা করল তা আমার বোধ গম্য নয়। তবে এখন তার কথায় বুঝছি সে অর্থের লোভে কারো প্ররোচনায় পড়ে এরকম একটি মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিষয় সম্পর্কে স্থানীয় ওই মেম্বার এর নিকট জানতে চাইলে সে বলে যে বিষয় নিয়ে মিমাংসা হয়েছে তা নিয়ে আবার ঘাটাঘাটির প্রয়োজন আছে কি? মেয়েটির পরিবার সু কৌশলে আবির এর জামিন করার জন্য একটি বড় অংকের অর্থ নিয়েছে বলে একটি সুত্র দাবি করে।

উলাশি বাজার এলাকার জনৈক এক ব্যাক্তি বলেন রহিমা খাতুন একজন খারাপ নারী। সে এর আগে এই ইউনিয়ন এর একটি পার্কে যুবতী মেয়েদের এনে দিত আগত দর্শকদের সাথে মনোরঞ্জন এর জন্য । এর সাথে ওই পার্কের মালিক এর ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে পার্কটি ভেংগে দেওয়ার পর এই রহিমা খাতুন তার ভাতিজী হাসনা সহ বিভিন্ন মেয়েদের এনে পুর্বের পরিচিত খরিদ্দারদের হাতে তুলে দিয়ে অর্থ উপার্জন করে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার তদন্তকারী এসআই তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা এ মামলার তদন্ত করছি। তবে ধর্ষন এর কোন আলামত সংগ্রহ করতে পারি নাই। এটা মেডিকেল রিপোর্টে বুঝা যাবে। এছাড়া ধর্ষন এর নয়দিন পর হাসনা নামে ওই নারী মামলা করে। এটা সাজানো নাটক কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষ বলা যাবে। মেডিকেল রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে এটা জেনেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন শুনেছি।
উল্লেখ্য বাদি হাসনা খাতুন তার ভুল বুঝতে পেরে সে কোর্টে যেয়ে মামলা তুলে নিয়েছে। তারপরও তাকে আবারও কিছু লোক চাপ প্রয়োগ করছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র দাবি করে।

ঢাকা, ২৭ নভেম্বর (ডেইলি টাইমস২৪)/আর এ কে

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button