মুজিব শতবর্ষ

চরকাতলাসুর গ্রামে মুজিব শতবর্ষ পার্ক উদ্বোধন

ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘স্বপ্ননগর’

ডেইলি টাইমস ২৪:  প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩০০ পরিবারের জন্য চরকাতলাসুর গ্রামে নির্মিত বিশেষ আবাসন প্রকল্প ‘স্বপ্ননগর’ ও উপজেলা পরিষদে নির্মিত মুজিব শতবর্ষ পার্ক, উদ্বোধন করেছেন ফরিদপুর-১ আসনের এমপি মঞ্জুর হোসেন ও জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহিদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ এলাহী, পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফারসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপজেলার কর্মকর্তারা।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তৈরি করা হচ্ছে ‘স্বপ্ননগর’ নামে বিশেষ একটি আবাসন এলাকা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০০টি ঘরকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চরকাতলাসুর গ্রামে এই পূর্নাঙ্গ আধুনিক ও মডেল আবাসন এলাকা ‘স্বপ্ননগর’ তৈরি হচ্ছে। এ আবাসন এলাকায় নির্মিত মসজিদ, মন্দির, হাট, খেলার মাঠ, ইদগাহ মাঠ, গোরস্থান, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক ও সামাজিক বনায়ন এর কাজগুলো পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক। এ সময় তারা আশ্রয়ন এলাকায় নির্মীয়মান ‘জেলা প্রশাসক উচ্চ বিদ্যালয়ের’ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরিদর্শন শেষে উপকারভোগীদের সাথে মতবিনিময় ও ত্রাণ বিতরণ করেন। উপকারভোগীদের দেয়া গৃহের পাশাপাশি পাচ্ছে ৩ শতাংশ করে খাস জমি। আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীন নির্মিত স্বপ্ননগর ইকোপার্কে ৯ একর জায়গায় রোপন করা হয়েছে ২০ প্রজাতির ৫০০০ গাছ। ৩৩ একর বেদখলকৃত খাস জমি উদ্ধার করে এ আবাসন প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে।

মধুমতির নদীভাঙনের কবলে নিঃস্ব হওয়া কিংবা স্থায়ী ঠিকানাহীন মানুষগুলোর ঠাই হচ্ছে এ স্বপ্ননগরে। পরে বিকেলে সংসদ সদস্য মনজুর হোসেন ও জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় একমাত্র স্থাপনা ‘ মুজিব শতবর্ষ পার্ক আলফাডাঙ্গা’ উদ্বোধন করেন।

দৃষ্টিনন্দন চোখধাধানো রুপের পসরা মেলে ধরেছে এ পার্কটি। আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভেতর এ পার্কটিতে আছে শিশু কিশোর সহ সকল বয়সীদের জন্য জন্য নানা আয়োজন।
দেশের অন্যতম বড় দুটি রঙ্গীন পানির ফোয়ারা পার্কের প্রধান আকর্ষণ। আছে শিশুদের জন্য স্পেশাল খেলাধুলা ও রাইডের আয়োজন নিয়ে আলাদা কিডস জোন। রয়েছে বাঘ সিংহ হরিণ  ডাইনোসরসহ নানা ধরণের প্রাণির প্রতিকৃতি। ওপেন জিমনেসিয়াম এ ব্যায়াম করতে পারবেন ইচ্ছেমত। আছে হাটা ও জগিং এর জন্য স্পেশাল রানিং ট্র‍্যাক। রয়েছে ব্যাডমিন্টন কোর্ট। নানা দেশি বিদেশি ফুল ফল গাছে সজ্জিত পুকুর পাড়ের বেঞ্চিতে প্রিয়জনকে নিয়ে বসে কাটিয়ে দিতে পারেন ঘন্টার পর ঘন্টা। পুকুরের শান্ত জলে বোটিং করে আলাদা অনুভূতি পেতে পারেন সহজেই।

মুজিব শতবর্ষ পার্কের সৌন্দর্য পুরোটাই উপভোগ করতে আসতে হবে সন্ধ্যার পর। এর মোহনীয় ও অনন্য আলোকসজ্জা চোখ ধাধিয়ে দেবে আপনার। অনুভব করতে পারবেন একটি উন্নত নগরীর পরিচ্ছন্ন রুপ। রাজধানী হতে অনেক দূরে ছোট্ট এ উপজেলায় বসে পাবেন উন্নত শহরের মত গড়ে উঠা পরিকল্পিত এ পার্কটিতে পরিপূর্ণ বিনোদন।

“ফরিদপুর -১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মনজুর হোসেন মহোদয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও জেলা প্রশাসক ফরিদপুর জনাব অতুল সরকারের নির্দেশনায় গড়ে উঠা এ পার্কটিকে জাতীয় মানে উন্নত করার জন্য উপজেলা পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক পার্কটির শুভ উদবোধন করেন।

শীঘ্রই আসছে ফুডকোর্ট, পার্টি সেন্টার, জিম্নেসিয়াম, রিসোর্ট, হ্যালিপ্যাড, পিকনিক জোন, ও ১ কিলোমিটার দৈর্ঘের রানিং ট্র‍্যাক।বর্তমান ৫ একর জুড়ে এ পার্কটিকে ছড়িয়ে দেয়া হবে পরিষদের ২২ একর জুড়েই।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button