আইন ও আদালতপ্রধান সংবাদ

ভারতে জামিন পেয়ে লাপাত্তা ই-অরেঞ্জের সোহেল

ডেইলি টাইমস ২৪: অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে জামিন পেয়ে পালিয়ে গেছেন ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক ও বরখাস্ত হওয়া বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা। ভারতের মেখলিগঞ্জ থানায় প্রতি সপ্তাহে সশরীরে থানায় হাজিরা দেওয়ার শর্তে জামিন পেয়েছিলেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জানায়, শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর শর্তসাপেক্ষে জামিন পান সোহেল রানা। থানায় প্রতি সপ্তাহে সশরীরে হাজিরা দেওয়া এবং মেখলিগঞ্জ থানা এলাকার বাইরে না যাওয়ার শর্ত ছিল। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর আগে, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে গ্রেপ্তার হন সোহেল রানা। পরে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে দেশটির একটি কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এর মধ্যে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুঁড়ি সার্কিট বেঞ্চ সোহেল রানার সাজা ঘোষণা করেন। এরপর থেকে জামিন পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলেই ছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি ৪২ দিন ধরে সেখানে নেই।

পুলিশ আরও জানায়, জামিন পাওয়ার পর থানায় এসে হাজিরা দেয়ার পরিবর্তে তিনি একটি ই-মেইলের মাধ্যমে জানান শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য তাকে উন্নত চিকিৎসা নিতে থানা এলাকার বাইরে যেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কোচবিহার জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু কাগজও থানায় ই-মেইল করেন তিনি। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ই-অরেঞ্জ কাণ্ডের পর ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের পর শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে এক বোনের কাছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সোহেল রানা। ভূটান-নেপাল ও বাংলাদেশ সীমানা ঘেরা শিলিগুড়ি করিডোর থেকে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। উন্মুক্ত ভারত-নেপাল সীমান্তের সুযোগ নিয়ে ফের নেপালে পালানোর চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

উল্লেখ্য, গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ই-অরেঞ্জ প্রতিষ্ঠানটি। বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক শেখ সোহেল রানার বোন ও ভগ্নিপতি চালাতেন প্রতিষ্ঠানটি। এই অভিযোগে সোহেল রানার বোন, ভগ্নিপতিসহ পাঁচজনকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক উল্লেখ করে ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা করেন এক ভুক্তভোগী।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button